"Vanderloost -Speak Your Heart Out" is a vagrant and bizarre conglomerate of consequential and inconsequential moments, transient and stagnant thoughts, fickle and rigid perceptions, forgettable and not so forgettable anecdotes and experiences, day to day trivia, cornucopia of hard hitting realities and pristine imageries and most importantly people whom I think I know , whom I'd like to know and whom I do not want to know.
Sunday, August 31, 2025
প্রতিবেশী
Friday, August 08, 2025
লাম লামা
Friday, April 11, 2025
আসলে নকল
Saturday, February 11, 2023
অদ্ভুতুড়ে
মনোজদের বাড়িতে একটা ছবি আছে - মনোজের প্রিয় ছবি। এই ছবিটি ওদের বাড়িতে কী করে এলো কেউ জানেনা। মনোজ প্রায়ই ওই ছবিটাকে মন দিয়ে দেখে। ছবিটাত যেই বাচ্চা ছেলেটার দুধের বাটিতে মেনি বেড়াল মুখ দিয়ে চুক-চুক করে সাবরাচ্ছে তাকে তার খুব আপনার মনে হয় - অচেনা বন্ধু কিন্তু বড়ই কাছের।
রাজা গোবিন্দনারায়ন কৃপণ - তাঁর চোরা কুঠুরিতে যে টাকার পাহাড় আছে তা গুনতে গুনতে ওনার সময় কাটে। যাকে বলে ফেভারিট পাস্ট টাইম। তবে উনি ভুল মেরে গেছেন যে টাকা খরচ না করলে তো সেই টাকা অচল হয়ে যায়।
গোয়েন্দা বরদাচরণ রাজা গোবিন্দনারায়নের ছোটবেলায় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ছেলে কন্দর্পনারায়ণকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তিনি ডাকসাইটে, পরম দাইত্বশীল, কর্মঠ , কাজী পুলিশ। উনি সাধারণত: কোনো বাড়িতে সামনের দরজা দিয়ে ঢোকেন না। পিছনের দেয়াল টপকে ঢোকেন। এটা নাকি গোয়েন্দাগিরির একটি মৌলিক প্রিন্সিপাল। বরদার দৃঢ় বিশ্বাস যে রাজকুমার কন্দর্পনারায়ানকে খুঁজে বার করার ক্লু মনোজদের বাড়িতেই কোথাও পাওয়া যাবে। এই বিশ্বাসের মূল স্তোত্র কী বলা মুস্কিল।
নিশি দারোগা ততোধিক আদর্শবান ও এক্সপেরিয়েন্সড থানার হেড।তিনি কাউকে ছেড়ে কথা কন না।
গোল বাঁধলো যখন ভজ বাবুর হাতে একটি পিস্তল এসে জুটলো। পিস্তলটি আর কারো নয় বরদা বাবুর। ভীরু যখন অস্ত্রধারক হয় তখন তাঁর পৈশাচিক মনোবৃত্তি বন্ধনহীন হয়ে যায়। ভজ বাবু পিস্তল যুক্ত হয়ে সর্ব রকম কুকীর্তির নিষ্পত্তি করার প্রতিজ্ঞা করেন । সুদখোর মহাজনী কারবারী, যারা বাজারে গিয়ে দর দাম না করে কিনে জিনিসপত্রের দাম অহেতুক বাড়িয়ে তোলেন ( বিশেষ করে শার্দুল বাবু), কানাই মাছ ওয়ালা যে ভজ বাবুকে দেখে ভালো মাছ লুকিয়ে রাখে - এ সকল দুর্বৃত্তদের গান পয়েন্টে ওঠ বস না করিয়ে ভজ বাবু ঠিক করলেন দম নেবেন না। কানাই আবার রাতে ডাকাতি করে। তাঁকে ধরতে গিয়ে ভজ বাবু পড়লেন ডাকাতদের মাঝে। কিন্তু ভজ বাবু তখন নব সমাজ সৃজনে প্রতিশ্রুত।
ডাকাত দলের বড়ো সর্দারের আবার সেরাতে জ্বর হওয়াতে ডাকাতি মেজো সর্দার লীড করবে ঠিক ছিল । মেজো সর্দার কে ঠিক ডাকাত বলে মনে হয় না। যুবকটি অন্য ধরনের দেখতে। সে ঠিক করলো ভজ বাবুই আজ রাতে ডাকাতদের লীড করবেন। ভজ বাবু সর্বতের (ডাকাতদের দেওয়া) ঘোরে তৎক্ষণাৎ রাজি হয়ে গেলেন। আর কি ? ধুন্ধুমার ব্যাপার।
এদিকে নিশি দারোগার কাছে ভজ বাবুর দ্বারা পীড়িত অনেক লোক কমপ্লেন করাতে তিনি পুলিশ বল সমেত মানোজদের বাড়িতে ওয়ারেন্ট নিয়ে হাজির। ভজ বাবুকে গ্রেপ্তার করবেন। এখানে শুচিবাইগ্রস্ত ঠাকুরঝির কথা বলা হয়নি। তিনি ভোর বেলা গোবর ছড়া দিয়ে বাড়ি পরিষ্কার করেন। সন্ধ্যেবেলা পুলিশকে নোংরা বুট জুতো পড়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতে দেবেন না। শুরু হলো এক আজব যুদ্ধ। ঠাকুরঝি ভার্সাস পুলিশ। লাঠি হাতে ঠাকুরঝি পুলিশদের রুখে দাঁড়াতে মনোজ সরোজ প্রমাদ গুনলো।
মেজকার ডাক পড়লো সিচুয়েশন সামলাতে। তিনি সমর স্থলে নামিয়ে দিলেন এক দল গরিমান - গরিলা + হনুমান! সে এক দেখার মত দৃশ্য!! এই জীবগুলো তাঁর নিজস্ব এক্সপেরিমেন্টের ফল প্রসূত।
ওদিকে রাজপ্রাসাদে পৌঁছে ডাকাত দলের মেজো সর্দারের রাজা গোবিন্দনারায়ণের পূর্বপুরুষদের অতিকায় জলছবি দেখে কেমন যেন মনে হতে লাগলো এই প্রাসাদে সে আগেও এসেছে।
গল্প প্রায়: বলেই ফেললাম। কিন্তু এখনো ক্লাইম্যাক্স অভি বাকি হ্যায় মেরে দোস্ত এবং তার জন্য পাঠকদের পড়তে হবে স্বানামধন্য ঔপন্যাসকার শ্রী শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা ছোটদের জন্য "মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি " নামক ভারী মজার বইটি।
আমার ছোটদের বই পড়তে ভালো লাগে। তাই পড়ে ফেললাম। শীর্ষেন্দু বাবুর লেখার গুণাবলী সম্বন্ধে মন্তব্য করার ধৃষ্টতার সাহস আমার নেই. তবে পড়তে গিয়ে যেই জিনিস গুলো নজর কাড়ে সেগুলির কথা নিশ্চয় বলব:
বইটি লেখা জলের মতন - চ্যাপ্টারের বন্ধন নেই। তাই এক ঘটনা থেকে দ্বিতীয় দুর্ঘটনায় কাহিনী লাফিয়ে লাফিয়ে চলে।
অনেক পার্শবর্তী চরিত্র আছে যাদের কথা আমি এখানে উল্লেখ করিনি কিন্তু তাঁরাও মজার ও গল্পে অনাবশ্যক মনে হয় না।
যদিও বইটির নাম "মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি" কিন্তু গল্পে মনোজের বিশেষ কোনো রোল নেই।
মনোজদের বাড়িতে কন্দর্পনারায়ানের ছবি কী করে এলো এবং তার খবর বরদা ডিটেকটিভ কী ভাবে পেলো তা লেখক খোলসা করেননি।
বরদা এতো বছর ধরে যাকে খুঁজছিলো সে নাকের ডগায়ই ডাকাতেদের দলে বিদ্যমান - এটা প্লটকে একটু অগোছালো করে।
বইটি হাস্যরসাত্মক, ব্যাঙ্গাত্মক ও কৌতুকাত্মক। পড়লে টেনশান দূর হয়। মন মেজাজ ভালো হয়ে ওঠেই।
গল্পের চরিত্রগুলোর সঙ্গে রিলেট করা মোটেই শক্ত নয়। তারা আমাদের আশেপাশে পাওয়া যাবে।
আমার এই প্রথম শীর্ষেন্দু পড়া। ভালো লাগলো তাই একটা ছোটোখাটো রিভিউ লিখলাম। বাংলা গল্পের বইয়ের রিভিউও আমার এই প্রথম লেখা।
সব প্রথম মিলেমিশে একাকার না হয়ে যায় তাই এখানেই ইতি টানলাম। ও হ্যাঁ! বলতে ভুলে গেছি হৈচৈতে এই বৈয়ের ভিত্তিতে বানানো চলচ্চিত্রটিও দেখতে পারেন।
ভালো থাকবেন ও ভালো লেখা পড়বেন।
আশা রইলো।
Friday, October 07, 2022
ভাগ্যিস !!
Friday, September 16, 2022
মুষিক পুরাণ
আমাদের নিচের তলার ফ্ল্যাট। তাই প্রায়ই বাড়িতে ছোট বড় নানান সাইজের ইঁদুর ঢুকে পড়ে। খেলাধুলা করে। নাচানাচি করে। আমার পোষ্যটি দার্শনিকের মতন তাকিয়ে তাদের নাচাকোদা, ছোটাছুটি দেখে ফোত করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। ল্যাও ঠ্যালা।
ফ্ল্যাটের সামনেই পার্ক। সেই পার্কে আবার বিশাল বড় বড় সাইজের ইঁদুর, যাদেরকে ইংরেজিতে রোডেন্ট বলে, লাফিয়ে বেড়ায়। ব্যালকনিতে রাত্রে তাদের ডাকাডাকি, হুড়োহুড়ি শোনা যায়। চিকার দল ও আছে। তাদের কথোপকথন কানে আসে। এদের মধ্যে কোনটি যে গাড়ির মধ্যে ঢুকে তার কাটে, পাইপ কাটে বলা মুশকিল। তবে এ ঝঞ্ঝাট ও আমাকে একাধিকবার পোয়াতে হয়েছে।
মুষিকের আগমনে ইঁদুর কল, আঠা দেওয়া বই যাতে ইঁদুর চিপকে যেতে পারে ইত্যাদির ব্যবস্থা বাড়ির ভিতর রাখা অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কিন্তু এত সব ব্যবস্থা সত্বেও এবার যাঁর চরণ ধুলি আমাদের বাটিতে পড়েছে সে যে মহা ধুরন্ধর তা বেশ ভালোই বোঝা যাচ্ছে। ইঁদুর কলে ঘী দেওয়া রুটি থেকে মাংসের টুকরো দিব্যি সে আত্মসাৎ করে আমাদের কলা দেখিয়ে আশেপাশে ল্যাজ উঠিয়ে নির্লজ্জের মতন খেলে বেড়াচ্ছে। দেখে গা জ্বলে যাচ্ছে। অথচ কিচ্ছুটি করার উপায় নেই কারণ আমার "সক্রেটিস" পোষ্য নির্বিকার চিত্তে তাঁকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। একবারও থাবা উঠিয়ে শাসানো তো দূরের কথা ভৌ ভৌ পর্যন্ত করছে না।
শেষ পর্যন্ত আঠা লাগানো বইটিই কাজে এলো। ঘুরন্ত জামাই ( মহিলা কিনা জানিনা তবে জামাই আদরে বাঁদর হয়ে যাচ্ছে তাই জন্যে আর কি...) শেষে আঠা যুক্ত বইয়ে ধরা পড়লো। তাঁর শেষ সৎকার মানে তাঁকে বই থেকে ঝেড়ে পার্কে ফেলে দিয়ে নিশ্চিন্ত হলাম। তবে আঠা মুক্ত হয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা খুব একটা সুখকর ছিল না। প্রায় নির্জীবই বলা চলে। দুর্ভাগ্য বসত: এক জোড়া কুকুর তাঁর পিছন নিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ইন্দুরটির কী দশা হয়েছিল বলতে পারবো না।
তবে তাঁর দুর্বল শরীর দেখে কষ্ট হচ্ছিল। যাইহোক জীব তো ! আর জীব হত্যা মহাপাপ। মানুষের জীবনের এটাই সবচেয়ে বড় contradiction। যা সে পায় না বা যতক্ষণ পায় না ততক্ষণ সে ছটফট করে নানা বিধ উপায় খোঁজে তাকে পাওয়ার - তা সে কোনো প্রাপ্তি হোক বা বিপদ থেকে মুক্তি হোক। কিন্তু সফলকাম হয়েও সন্তুষ্টি থেকে সে ক্রোশ দূরে থাকে হয় আরো পাওয়ার লোভে বা পেয়েও অশান্ত চিত্ত হয়ে আর বিবেকের তাড়নায় ছটফটিয়ে।
আশা করি একটি মুষিকের শেষ কৃত্যের ভাগী হয়ে আমি যেই দর্শন লাভ করেছি তদ্দারা আপনারা যথাযথ অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ বোধ করবেন।
আচ্ছা রাখি তাহলে ..
Friday, May 13, 2022
লাছুরি
আমার জীবনে কিছু দুক্কু বরফের ড্যালার মতো জমা পড়ে আছে। আজ সেগুলির একটা লিস্টি তৈরী করব ঠিক করেছি :
দুক্কু নম্বর ১
এটা আমার ছোটবেলার দুক্কু
আমাকে কেউ গান গাইতে বললে আমার স্মৃতি শক্তি ও গলার আওয়াজ দুই ই লোপ পায়। "কী গাব আমি কী শোনাবো ..." ছাড়া আর কোনো গান আমার মনে পড়ে না। অথচ আমার চিরকালের স্বপ্ন আর ডি বর্মন 'আমাগো বাসার' সামনের রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে হারমোনিয়ামে আমার সা - রে - গা - মা - পা - ধা - নি - সা রেওয়াজ শুনে বাড়ীর কলিং বেল বাজিয়ে আমায় কোলে তুলে নিয়ে একেবারে বোম্বে পাড়ি দেবে। কিন্তু হলো না ..
দুক্কু নম্বর ২
ইটা আমার মেয়েবেলার দুক্কু
কত মেয়েরা কী সুন্দর ভাবে টান -টান করে মডেলের মতন শাড়ি পড়ে , মেক আপ করে , মিষ্টি দেখায় ...আমি শত চেষ্টা করেও পারি নিকো। ঠোঁটে লিপিস্টিক মাখলে কালো কালো ছোপ পড়ে। চোখে কাজল আঁকলে চোখের তলায় কালি আরো প্রবল গাঢ় দেখায়। ফাউন্ডেশনের গন্ধ আমার সহ্য হয় না - মাথা ধরে...গা ঘিন ঘিন করে তাই এই দুক্কুটাও রয়ে গেলো গো ...
দুক্কু নম্বর ৩
এটা আমার ধিরে ধিরে গড়ে ওঠা দুক্কু
ছোটবেলায় আমি ভীষণ লাজুক ছিলাম। কেউ কোনো বাজে কথা বললেও তার উত্তর দিতে পারতাম না - খুব খারাপ লাগতো। দিনের পর দিন সেই বিষ মাখা কথাগুলো মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেত। আর আমি উত্তর না দিতে পেরে মনে মনে গুমরাতাম। তারপর উত্তর দিতে শিখলাম, রাগ করতে শিখলাম, রাগ দেখাতে শিখলাম এবং শেষ-মেষ রাগে ফেটে পড়তে শিখলাম। ক্রোধ শনি ... কে না জানে? রাগের চোটে মাঝে মধ্যেই মাথা দপদপাতে শুরু করতে লাগলো . তখন রাগ কমাবার পন্থা গুলো অবলম্বন করতে শুরু করলাম। পুরোপুরি ক্রোধ সম্বরণ করতে না পারলেও ভিসুভিয়াস হই না আর বা হতে হতে থেমে যাই. কিন্তু আমার দুক্কু হলো কিছু কিছু লোক দেখি কী সুন্দর রাগ চেপে রেখে মিষ্টি মিষ্টি করে পিচিয়ে পিচিয়ে কথা শোনাতে পারে তারপর কী অমোঘ কৌশলে ঝোপ বুঝে কোপটি মারে। আমি কেন তা পারিনা ? একদম পারিনা।
দুক্কু নম্বর ৪
এটা আমার মানে এক্কেবারে এক্সেপশনাল দুক্কু
আমি অহেতুক এবং অনিয়ন্ত্রিত অন্তরঙ্গতা বা ভাবপ্রবণতা হ্যান্ডেল করতে পারি না। টু মাচ ইমোশন একেবারে নো নো। মানে ওই ভাবের ফানুশ হয়ে গলে গলে - ও:! এটা আমার দু:খ না অক্ষমতা ঠিক বলা কঠিন। মানে আমাকে যদি কেউ প্রেম নিবেদন করে - ভাগ্যিস কোনোদিন কেউ করে নি - আমার যে কী প্রতিক্রিয়া হবে বা হতো বলা মুস্কিল। একবার এক পাড়ার ছেলে রাস্তায় আমাকে ,"আপনাকে অনেক কথা বলার আছে কিন্তু কেমন করে বলি বুঝতে পারছি না। .." বলাতে আমি " তাহলে আর বলে কাজ নেই " বলে হনহনিয়ে চলে গেছিলাম।
দুক্কু নম্বর ৫
এটা আমার বড়বেলার দুক্কু
আমি অনেক লেটে গাড়ী চালাতে শিখি। তার ও বেশ কিছু বছর পরে গাড়ী কিনি। যতদিনে গাড়ী কেনার মুরোদ হলো ততদিনে গাড়ি চালানো ভুলে গেছি আর কি। তারপর আবার শিখলাম। দু বার ই ড্রাইভিং স্কুলের গাড়ীতে। ও গাড়ীতে কেউ চালানো শিখতে পারে না। কারণ কন্ট্রোল থাকে পাশে বসে থাকা ড্রাইভারের কাছে। তাই আবার শিখলাম - এবার নিজের গাড়ীতে। তিন মাসের ট্রেনিং ছ মাসে গড়ালো। যিনি শেখাতেন তিনি টেনশনে টেনশনে বিড়ি ফুঁকে ফুঁকে গাড়ীতে বিড়ির এমন গন্ধ করে ফেললেন যে গাড়ীতে বসা দায়। এক হরিয়ানার ড্রাইভার আমাকে শেখাতে এসে রেগে-মেগে বলেছিলো ,"ম্যাডাম আপনি সব জানেন কিন্তু রাস্তায় বেরিয়ে কিছুই করেন না" - ম্যাডাম করবেন কী করে ম্যাডাম তো রাস্তায় নেবে ভয়ের চোটে বোধশক্তিরহিত হয়ে যান । আজকালকার ছোট্ট ছোট্ট মেয়েদের দেখি ততোধিক ছোট্ট ছোট্ট জামা পড়ে বিশাল গাড়ী নিয়ে ভোঁ ভোঁ করে চালিয়ে যাচ্ছে। দেখে হিংসে হয়।
দুক্কু নম্বর ৬
এটা আমার বুড়োবেলার দুক্কু
এই দুক্কু এমন দুক্কু "বোঝে কে আন জনে সজনি আমি বুঝি মরেছি মনে মনে " - না কাব্যি করার কিছু নেই। তবে এটা ঠিক যে এই দুক্কু নিয়েই আমি গত হব। আমি কনজেনিটালি ওভারওয়েট। ছোট্টবেলায় আমায় কেউ কোলে নিতে পারতো না। এখানে ছবি দিতে পারতাম - থাক। স্কুল ও কলেজ এবং পরবর্তি চাকুরী জীবনে আমি তন্বি হিসেবে খ্যাত ছিলাম। তিরিশ পেরিয়ে সেই যে খেতাব হারালাম এখন ওইয়িং মেশিনে পা রাখতে ভয় হয় যদি ভেঙে যায় - লজ্জা . লজ্জা। তবে একবার ডায়েট করে ১৫ কিলো ওজন কমিয়ে ছিলাম। পাড়া প্রতিবেশীরা চিন্তিত স্বরে জিজ্ঞেস করতো , "তুমি কী অসুস্থ ?" তারপর শরীর এমন খারাপ হলো - গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট বললেন "ডায়েট করে কাম নাই। নর্মাল খাবারে ফিরে আসেন"। আর আমি সেই যে ফিরলাম আর যাওয়া নাই। তবে আমার এজেন্ডা না খেয়ে মরার নয় - . আমি খেয়ে বাঁচতে এবং মরতে চাই. - আই হোপ ভগাদা আমার এই ইচ্ছে টুকুর মান রাখবেন।
যাক অনেক দুক্কের কথা ঢাক পিটিয়ে বললাম .
তবে এটা জরুরি ছিল নয়তো আমার ববম হাজামের মতো অবস্থা হচ্ছিলো। পেট ফুলে ঢোল।
বয়সটাও এমন .. হঠাৎ করে টেঁসে গেলে ভ্রাম্যমান পেত্নী হয়ে "কাকে বলি...কাকে বলি " করতে করতে মর্তলোকে ঘুরে বেড়াব আর যার তার কানে ফিসফিসাব।
তাই আর কি লিখে রেখে গেলুম
হালুম এন্ড হুলুম।
Wednesday, April 20, 2022
দিশারী
আমার আবার দিক্ভ্রমের বাতিক আছে।
এই একটি কারণেই আমি গাড়ী ড্রাইভ করি না বললে ভুল হবে তবে এটা অনেক গুলো কারণের মধ্যে একটা । যেহেতু আমার চলন্ত যেকোনো বাহনে একাগ্রতার অভাব হয় সেহেতু দিক ভুল করা ও যে অসম্ভব নয় তাও নিশ্চিত। এই অদ্ভুত ব্যারামে অনেক ভোগান্তি আমার হয়েছে। কিছু কিছু ঘটনা বলি -
১
বাড়ীর কাছের গলিতে ভুল করে ঢুকে পড়ে ঘুরপাক খেয়েছি বহুবার। বহুত রাস্তা ভুল করেছি। গলত টার্ন নিয়েছি। আপনজনদের হাঁসি ঠাট্টার খোরাক হয়েছি।
একবার অটোতে বসে ডান দিক বলতে বাঁ দিক বলে ফেলেছিলাম। অটো চালক রাগতঃ স্বরে আমায় নিজের ডান দিক বাঁ দিক ঠিক করে নিয়ে তারপর তাকে ডাইরেকশন দিতে বলেছিল ।
২
একবার রিক্সা করে বাড়ী ফিরছি হঠাৎ মাথাটা গড়বড় করে বসলো। তখন আমি পশ্চিম বিহারে থাকি। এই এলাকার সবচেয়ে বড় মার্কেট জোয়ালাহেড়ী থেকে সোজা নাক বরাবর গেলেই জী -এচ ১৪ ব্লকে আমার বাসা ... কিন্তু কেন জানিনা সব গুবলেট হয়ে গেলো। তখন ভর দুপুর। রিকশাওয়ালাকে খুব ঘাবড়ে গিয়ে বললাম ভাই আমার বাড়ীটা তো এখানেই ছিল। কোথায় চলে গেলো জানিনা। বিহারী রিকশাচালক রসিক ছিল, বললে "সারা দিন পড়ে আছে, খুঁজে নিন। " ভাব ..
৩
তবে তৃতীয় ঘটনাটি মারাত্মক হয়েছিল। ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ নিয়ে রাস্তায় নেমে ছাই রঙা ওয়াগন আর দেখে দরজা খুলে ড্রাইভারের পাশের সিটে বসেই হুকুম দিলাম, "চল "...গাড়ী স্টার্ট দিচ্ছে না দেখে পাশে তাকিয়ে দেখি একটি গোল পানা অচেনা মুখ - শ্যামল বরণ , একজোড়া হৃষ্টপুষ্ট গোঁফ আর বড় বড় বিস্ফারিত চোখ। বিস্ফারিত বলবো না - বিস্মিত , অভিভূত , রোমাঞ্চিত - সব কিছু মেলানো সেই লোম খাঁড়া করা দৃষ্টি কী বলবো আর !! আমি সেকেন্ডের মধ্যে বাইরে।
আর একটি ছাই রঙা ওয়াগন আর পিছনে দাঁড়ানো দেখে বুঝলাম কোথায় গন্ডগোলটা করেছি। এর পর থেকে নিজের গাড়ীতে বসার আগে গাড়ীর নম্বর চেক করার অভ্যাস করেছি। কিন্তু নম্বরেও যদি গোল করি তাহলে আর কী কী পন্থা আছে এই ব্যারাম থেকে মুক্তি পাওয়ার ভাবতে হবে..
হ্যাঁ ..আরেকটা কথা
যেই অচেনা ভদ্রলোকের গাড়ীতে বসে পরম আত্ম-বিশ্বাসের সঙ্গে গাড়ী চালানোর হুকুম দিয়েছিলাম তাঁর স্ত্রী গাড়ীর কাছাকাছি ছিলেন কিনা জানিনা। একজন আজনবি মহিলাকে গাড়ীতে বসে কিছুক্ষন পরে ছিটকে বেরিয়ে আসতে দেখে তাঁদের বৈবাহিক জীবনে পরবর্তীকালে কোনো গোলযোগ বেঁধেছিলো কিনা সেটা জানার ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও জানবার কোনো সুযোগ বা উপায় হয়নি ।
হবে কী করে ? ভদ্রলোককে আরেকবার পথে-বিপথে দেখে চিনতেই পারবো না। তবে হ্যাঁ। .ওনার সেই অবিশ্বাস্য ভরা কেতো -কেতো চাহনি জীবনে ভুলবো না....... ... সেটা ঠীক।
Monday, April 18, 2022
বয়:ধর্ম
Monday, April 04, 2022
কুঞ্চি-বুঞ্চির মা ডেপি
Friday, October 12, 2018
পথে যেতে যেতে
আসল কথা হলো - কতো মিলিয়ন বৎসর পূর্বে এই সরীসৃপ সারা পৃথিবী দাপিয়ে বেরিয়েছে। মানুষ তখন কোথায় ? হয়তো ভগবান মানুষের তখনো কল্পনা ও করেননি। কিন্তু আজ এই বিশালকায় প্রাণী ধরণী থেকে সমূলে নিশ্চিহ্ন। মানুষ কী এই ছোট কথাটা মনে রেখেছে ?
Monday, March 19, 2018
রাতের ডায়েরী
Sunday, March 26, 2017
“সহজ পাঠ”
ছোটোবেলা থেকে বাংলা ও ইংরেজিতে অনবদ্দ্য ভাবে নানা রকমের বই পড়েছি – উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা, বিবিধ সাহিত্যিকের রচনাবলি আর সিলেবাসে যে সব পাঠ্যপুস্তক ছিল তাতো বটেই। হিন্দিতে পাঠ্য পুস্তক ছাড়া বিশেষ কিছু পড়া হয়নি। তবে হিন্দি গান শুনে-শুনে ভাষার সূক্ষ্ম আবেদনগুলি বোঝার চেষ্টা করেছি। হ্যাঁ! সত্যিই! গান ও যে সাহিত্যের একটা নিবিড় অঙ্গ সেটা আমরা প্রায়সই ভুলে যাই।