Showing posts with label Bangla Blog. Show all posts
Showing posts with label Bangla Blog. Show all posts

Sunday, August 31, 2025

প্রতিবেশী



আমার ঠিক পাশের বাড়ি।  বাড়ি নয়। একতলার ফ্ল্যাট। আমারও ওদেরও। শুধুমাত্র একটাই দেওয়ালের ব্যবধান। দেওয়ালের উপর রেলিং। রেলিংটা ডিঙ্গোতে পারলেই ওদের ফ্ল্যাটের বাড়ানো ববারান্দায় গিয়ে পড়বো।  

রেলিং কিন্তু কখনোই ডিঙ্গোইনি। 

কথাও খুব একটা বেশি হয় না । ওই মাঝে মধ্যে "কি কেমন আছেন?  ভালো?" এই ধরনের আদান প্রদান। কিন্তু ওই বাড়ির বৌদিকে দেখেছি সকাল সকাল  ভেজা কাপড়গুলো বারান্দায় মেলতে। দেখে মনে পড়ে গেছে আমাকেও কাপড় ধুয়ে মেলতে হবে। ওদের বাড়ির কাজের লোকটি ঠিক আসে দুপুরে। এই বারোটার থেকে একটার মধ্যে। আমি ভিতর ঘর থেকেই আওয়াজ পাই। তারপর তার বারান্দা ধোয়ার শব্দ শুনে মনে হয় সবকিছু ঘড়ির কাঁটার তালে তালে চলছে। 

আশ্বস্ত হই।

রাত্রে সদর দরজায় তালা লাগাতে গিয়ে এক ফাঁকে ওদের দরজার দিকে উঁকি মারি। আমার ব্যালকনি থেকে ওদের দরজাটা দ্যাখ যায়। না: ! আলো জ্বলছে। লোহার জাল দেওয়া দরজাটা ভ্যাজানো। কিন্তু ভিতর ঘরের মানে বসবার ঘরের কিছুটা অংশ দ্যাখা যায় যতক্ষণ না কাঠের দ্বিতীয় দরজাটা বন্ধ করা হয়। আমার ফ্ল্যাটেরো ওই রকমই প্যাটার্নের দরজা। 

লোক দ্যাখা যায় না বটে কিন্তু মৃদু গলার শব্দ পাই। কথার টুকরো ছুটে আসে। নিঃশ্বাস ফেলি। সব ঠিক আছে। ঘড়িতে বাজে দশটা। 

নিশ্চিন্ত হই।

***

কিছুদিন হলো ওদের ফ্ল্যাটের দরজাটা বন্ধ। কাঠের দরজাটাও। মহিলাকেও দেখতে পাচ্ছি না। ভেজা কাপড় দড়িতে ঝুলছে না। ওনার আবার ফুঁসফুসের ব্যামো আছে। প্রায়:সই দমকা কাশির আওয়াজ পাই। বেশ কিছুদিন সেই আওয়াজটাও পাচ্ছি না। 

ভাবি মেয়ের বাড়ি হয়তো বেড়াতে গেছেন। বা হয়তো ছেলের কাছে। অস্ট্রেলিয়ায়? ছেলের বউয়ের সাথে তেমন বনিবনা ছিল না। কিন্তু দুরত্বে মনের টান বাড়ে। হয়তো নাতনির কথা মনে পড়ে গিয়ে মন কেমন কেমন করে উঠেছে। দুপুরে বেলা কাজের মেয়েটি কিন্তু রোজ আসছে। হয়তো ওর কাছে বাড়ির চাবি দেওয়া আছে। অনেকদিনের বিশ্বস্ত কাজের লোক!

দীর্ঘনিশ্বাস ফেলি।

***

মনটা উদাস হয়ে গেলো। বিদেশ মানে তো মাস খানেকের ধাক্কা। 

একা একা লাগে। ব্যালকনিতে আর বসি না । ভয় ভয় করে। আমিতো একা থাকি। পাশের বাড়ির ওরা না থাকাতে ভরসা পাই না। কিসের ভরসা ? 

যদিও আগেই বলেছি খুব একটা আলাপচারিতা হতো না। কিন্তু তবুও মানুষের নীরব উপস্থিতিও প্রতিদিনকার জীবন যাত্রার একটা বিশাল  জায়গা জুড়ে থাকে। পাড়াটা বড়ই চুপচাপ মনে হচ্ছে। সন্ধ্যার পর নিঃশব্দতা যেন আরো গাঢ় হয়ে উঠছে। ছোটখাটো খুটখাট শব্দগুলোও নির্জনতা ভেদ করে শেলের মতো বিঁধছে। অদ্ভুত এক ভয়াবহ পরিবেশ সৃষ্টি করছে। 

ভাবছি কিছুদিনের জন্য অন্য কোথাও ঘুরে আসব। বন্ধুর বাড়ি। বা কোনো আত্মীয়র কাছে। কিন্তু সবাই আজকাল বড় ব্যস্ত। সময়ের সবার কাছে বড় অভাব।

***

কাল দুপুরে শুনি পাশের ফ্ল্যাটের সদর দরজা খোলার আওয়াজ। কাজের মেয়েটি বোধহয় এসেছে। কান লাগিয়ে আরেকবার শুনি। কেউ যেন দরজা খুলে দিল মনে হলো। চাবি ঘোরানোর আওয়াজ তো পেলাম না।

বাইরে বেরিয়ে দেখি মেয়েটি বারান্দা ধুচ্ছে। ভাবলাম জিজ্ঞেস করি। তারপর ভাবলাম যদি কিছু মনে করে। তাই আর প্রশ্ন করি না। যাওয়ার সময় মনে হলো কেউ যেন দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করলো। তাহলে কি ওরা আছে?

***

পরের দিন সকালে মহিলার গলার আওয়াজ পেলাম। বাইরে বসে স্বামী স্ত্রী দুজনে চা খাচ্ছেন। ফ্ল্যাটের দরজাটাও খোলা। আসতে যেতে নজরে পড়ছে। কাজের মেয়েটি দুপুরে এসেছে। মহিলার সঙ্গে কথাবার্তাও টুকটাক চলছে। সংসারের নানান আলাপ আলোচনা ভেসে আসে। 

ঘড়ি দেখি। মিনিটের আর সেকেন্ডের কাঁটাগুলো নিজেদের তালে তালে ঠিক চলেছে। ন পিসিকে বলেছিলাম সপ্তাহ খানেকের জন্যে ঘুরে যাবো। ভাবছি আজ ফোন করে যাওয়ার প্রোগ্রামটা ক্যান্সেল করে দেব।

কি বলেন?






Friday, August 08, 2025

লাম লামা

আমাদের এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় ছিলেন। কাঠ বাঙ্গাল। তাঁর হিন্দী ছিল ভীষন ভাবে বাঙ্গাল ঘ্যাসা  মানে হেভিলি এক্সেন্টেড। কিন্তু তাই বলে কি উনি আলাপচারিতায় পিছ পা ছিলেন। মোটেই না। বরং আগ বাড়িয়ে পথযাত্রীদের সঙ্গে  অশুদ্ধ হিন্দীতে ওনার বার্তালাপ-এর গল্পো ছিল আমাদের হাঁসির খোরাক।

যেমন বাস স্ট্যান্ডে বাসের জন্য অনেক ক্ষণ অপেক্ষারত থেকে সময়ে বাস না পাবার আক্ষেপ জানাতেন পাশের যাত্রীকে, "পইলে ২১৩ নম্বর বাস বহুত ঘন ঘন আতা থা। আজকাল ক্যা হো গেয়া। অনেক প্যারাশানি হোতা হ্যায়।" পাশের আগুন্তুকটি ও কি বুঝে মাথা নাড়িয়ে সায় দিতেন। 

একবার বাসে চড়ে মালভিয়া নগর যাচ্ছিলেন সেই মেসোমশাই। জায়গাটি অপরিচিত হওয়ায় বাসের কন্ডাক্টর কে উনি অনুরোধ জানালেন, " মালব্ব নগর আনে সে হামকো লামা দেনা"। কন্ডাক্টরটি ও ছিল রসিক বটে। স্টপ টি আসাতে উনি মেসোমশাইকে বল্লেন, "অব আপ লাম যাও"।

আমার মা বিবাহের পূর্বে অনেক বছর দিল্লীবাসিনী ছিলেন। সেই দেশ বিভাগের আগে মামাদের কাছে আসা তারপর আর ফিরে যাওয়া হয়নি। কিন্তু মার হিন্দীতে ও বাংলা টান ছিল প্রবল। মা কিছুতেই হ্যায় বলতে পারতেন না। হয়ে যেতো হায়। আমরা এ  নিয়ে প্রচুর হাঁসি ঠাট্টা করতাম।

আমাদের বাড়িওয়ালি ছিল ঠেট পাঞ্জাবি। কিন্তু মা দিব্যি ওঁর সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যেতেন। উনি ওনার ভাষায় মা নিজের ভাষায়। পরে মাকে যখন আমরা জিজ্ঞেস করতাম উনি কি বললেন মা বুঝেছেন কিনা মা ঘাড় নাড়িয়ে জবাব দিতেন, "না"। ওনার ও অবস্থা নিশ্চই ছিল তথৈবচ কিন্তু দুজনে দুজেনের কথা সসম্মানে ও সাগ্রহে শুনতেন অধৈর্য্য না হয়ে। একেই বোধহয় সভ্যতা বা ভদ্রতা বলে।

তখন কার দিনের মানুষরা ভিন্ন প্রকারের ছিলেন। তাদের বোধ, সংস্কার, ভদ্রতা জ্ঞ্যান ছিল অন্য। আজ তাঁরা নেই । সেই মুল্যবোধ ও আর নেই।

Friday, April 11, 2025

আসলে নকল




অনেকদিন পর একটা বাংলা ওয়েব সিরিজ দেখলাম। নারায়ণ সান্যালের সোনার কাঁটা অবলম্বনে । সিরিজটির নাম "কাঁটায় কাঁটায়"। খারাপ লাগলো না তবে...

ওই তবেটাই হলো মুশকিল। একবার পেঁয়াজের খোসা ছাড়াতে বসলে আর শেষ নেই। 

ছোটো করে বলি ।

এডভোকেট পী কে বাসু  সুজাতা মিত্র বলে একটি সুন্দরী মহিলাকে খুনের দায় থেকে বাঁচাতে গিয়ে কেতন দেসাই নামক ব্যবসাদারের পার্টনার কে দোষী সাব্যস্ত করেন। আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। জেলে থাকা কালীন আসামি (নাম ভুলে গেছি) একটি চিঠি লিখে জানান যে তিনি ন্যায়ের সেবা করতে গিয়েই খুনটা করেছেন। অতএব তিনি দোষী নন। যেহেতু কেউ তাকে বিশ্বাস করে না বা করবে না তিনি তাই আত্মহত্যা করাই বেছে নেন । এরপর এই মামলায় যুক্ত সবাই এক এক করে খুন হতে থাকেন। একটি দুর্ঘটনায় পী কে বাসুর কন্যাও মারা যায়। 

এদিকে সুজাতা কৌশিক দার্জিলিংয়ের কাছে একটি রিসর্ট খুলবে ঠিক করে। বলা হয়নি কৌশিক সুজাতার কেসে অভিযুক্ত ছিল। কেতন কে মারার জন্য দুটো গুলি চলে। একটি সুজাতার পিস্তল থেকে আরেকটা আততায়ীর আগ্নেয়াস্ত্র থেকে। কৌশিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুজাতার হাত থেকে বন্দুকটি নিজের হাতে নিয়ে নেয় যাতে সে দোষী সাব্যস্ত হতে পারে। কিন্ত রাখে হরি মারে কে? কৌশিক আসল খুনী ধরা পড়ায় সসম্মানে ছাড়া পায়। 

তারপর প্রেম আরো গাঢ় হয়। আঁঠা হয়ে বিবাহ বন্ধনে সুজাতা কৌশিক আঁট হয়ে যায়। অতঃপর দার্জিলিং -  যেখানে কেতন দেসাই মামলার সঙ্গে সপক্ষে বিপক্ষে যারাই যুক্ত তাঁরা সবাই আমন্ত্রিত হয় রিসর্টের লাল ফিতে কাটার জন্য। এই আমন্ত্রিতদের মধ্যে খুনী ও শামিল। এরপর একে একে খুন হতে হতে বেঁচে যাওয়া। এবং শেষ মেষ  বাসু বাবুর গোয়েন্দাগিরির সুফল স্বরূপ ঘাতকের ধরা পড়া।

এবার ছাড়াই পেঁয়াজের খোসা ...

সুজাতা কেতন মামলার কথা বলি । সুজাতাকে কেতন নিজের বাংলো তে রাত্রি বেলা ডাকতেই সে কেনো গিয়ে হাজির হলো ?

ভালো মেয়েরা এরকম মাথামোটা কাজ করে ?

আরে নিজের সুরক্ষা তো নিজেকেই ভাবতে হয়। সুজাতা কী ভেবেছিল ? গড়বড় দেখলে গুলি চালিয়ে দেবে। তারপর কৌশিক তো আছেই ?

আচ্ছা তা নয় হলো কিন্তু সুজাতা পিস্তল কোথা থেকে পেলো ? পিস্তলের লাইসেন্স ছিল কি? কৌশিক ওখানে কী করে পৌঁছলো ? ভীষন বেশি কাকতালীয় হয় গেলো নয় কি ?

এবার কোর্ট  সীন।

এডভোকেট বাসু জজ সাহেব কে আততায়ীর গতিবিধি সম্বন্ধে অবগত করাতে গিয়ে বললেন " আমার মনে নয় ..." এই ভাবে আর কি খুনটি হয়েছে। "আমার মনে হয়..."? না হয় উচিত "আমার বিশ্বাস..."? সংলাপটি শুনে কানে খোঁচা লাগলো। আরে এডভোকেট সাহাব কানূন সবুত মাংতা হ্যায় "আমার মনে হয়" নেহি।

আসি দার্জিলিংয়ে।

ইন্সপেক্টর রমেন, যিনি সুজাতার কেসে ইনভেস্টিগেশন অফিসার ছিল, এখন দার্জিলিংয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা হোটেলে, যেখানে বাসু বাবু সস্ত্রীক উঠেছেন, এসে হাজির। মামলার পরবর্তী খুনগুলির ইনভেস্টিগেশন ও তাঁর হাতে। কিন্তু ইতিমধ্যে তিনি কেটি নামক এক নাইট ক্লাব সিঙ্গারের প্রেমে হাবু ডুবু খেয়ে পুলিশি কার্যকলাপ ও গতিবিধির কনফিডেনসিয়াল খবরাখবর নির্দ্বিধায় মেয়েটির সামনে ফোনে আলোচনা করে নিজের জীবনাবসানের পথ নিজেই প্রশস্ত করে ফেলেন। কেটি রমেন কে লাখ টাকার বিনিময়ে খুন করে। একজন দুদে পুলিশ অফিসার কী করে প্রেমে এরকম ভাবে ক্যালাতে পারে ?

রিসর্টে আসি।

প্লটটিকে ঘোরালো করার জন্য নানান হাইলি সাস্পিসিয়াস চরিত্রের সুজাতা কৌশিকের রিসর্টে অবতরণ । একজন ডাক্তার আর তার স্ত্রী যার সুজাতা মিত্র কেসের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। একটি কথায় কথায় ধুমপানরতা দারুন স্টাইলিশ মহিলা এবং একটি আর্টিস্ট ছোকরা । একজন বার্কলে ইউনিভার্সিটির শিক্ষক যার বিনা অনুমতিতে যার তার ফোন ক্লিক করে ছবি তোলার শখ।

ডাক্তারের স্ত্রীর আবার সবরকম মনোবৈজ্ঞানিক রোগ আছে - ক্লেপটোম্যানিয়া ,  ঘুমের ঘোরে চলা মানে সোমনামবুলিসম ইত্যাদি।

তারপরে যা হয়ে থাকে। 

বরফ... ঝড়... ফোনের তার কাটা... যোগাযোগ বন্ধ... এর মধ্যে বাসু বাবুর অনুরোধে দার্জিলিঙ পুলিশের এক অফিসার রিসর্টে এসে হাজির খুনী কে ধরার জন্য... ইয়ে মানে বাসু বাবুকে খুনীকে ধরার্থে হেল্প করার জন্য। তিনি এসেই সবাইকে সন্দেহের চোখে দ্যাখা আর জেরা শুরু করা। জেরার ফাঁদে এমন কি বাসু বাবু পর্যন্ত জড়িত। 
দারুন সিনসিয়ার পুলিশ.. হুঁ হুঁ । 

এর পরে আর স্পয়লার না দিয়ে একটা ছোট্ট হিন্ট দিয়ে পেঁয়াজের খোশা ছাড়ানো বন্ধ করি।  যারা যারা আগাথা কৃষ্টির মাউসট্র্যাপ গল্পটি পড়েছেন তার সঙ্গে কাঁটায় কাঁটায়ের শেষ ক্লাইমেক্সের হুবহু সাদৃশ্য খুঁজে পাবেন। এটা কি কাকতালীয়? অথবা যাকে বলে ইনস্পায়ার্ড? না সম্পূর্ণ ভাবে লিফটেড ?

তবে পুরো সিরিজটা  দ্যেখার পর একটাই কথা মনে হয়। এত জল ঘোলা না করে সোজাসুজি কেতন দেসাইয়ের খুনের মামলায় অভিযুক্ত লোকটি  কাকে চিঠী বা সুইসাইড নোটটা লিখেছিল সেটার খোঁজ করলেই তো খুনী সহজেই ধরা পড়ে যেত । নয় কি ? কেনো চিঠিটি যাকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছিল তার পরিচয় শুরুতেই পাওয়া গেলো না বা ধরা পড়ল না সেটা বোধগম্য হলো না তো। 

হ্যাঁ তবে এত সহজেই খুনী ধরা পড়লে গল্পের গরু গাছে উঠতে পারত না তা ঠিক ।









Saturday, February 11, 2023

অদ্ভুতুড়ে


এই  কিছু দিন আগে মনোজ, সরোজ, পুতুলদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। মনোজের বাবা রাখোহরি বাবু কড়া ধাঁচের মানুষ - অনুশাসনের বাঁধনে গৃহস্থালিটিকে বেঁধে রেখেছেন। মনোজের মেজকা হারাধন বাবু অসাধারণ সব  বৈজ্ঞ্যানিক এক্সপেরিমেন্টে ব্যস্ত থাকেন। মনোজের ছোটকা ভজহরি বাবু বাজারু নামে বিখ্যাত। তিনি বাজার-দক্ষ -  মানে অর্ধেক দামে কেমন করে প্রয়োজনীয় সব  জিনিসপাতি কেনা যায় - এই গুহ্য তত্ব ওনার চাইতে বেশি ভালো কেউ জানেনা। তবে তিনি ভীরু প্রকৃতির। এখনো এই বয়সে ওনার  ইশকুলের মাষ্টারমশাই  কারণে অকারণে ওনাকে  কান ধরে ওঠ বস করাতে পারেন ।  

মনোজদের বাড়িতে একটা ছবি আছে - মনোজের প্রিয় ছবি। এই ছবিটি ওদের বাড়িতে কী করে এলো কেউ জানেনা। মনোজ প্রায়ই ওই ছবিটাকে মন দিয়ে দেখে। ছবিটাত যেই বাচ্চা ছেলেটার দুধের বাটিতে মেনি বেড়াল মুখ দিয়ে চুক-চুক করে সাবরাচ্ছে তাকে তার খুব আপনার মনে হয় - অচেনা বন্ধু কিন্তু বড়ই কাছের।

রাজা  গোবিন্দনারায়ন কৃপণ - তাঁর চোরা কুঠুরিতে যে টাকার পাহাড় আছে তা গুনতে গুনতে ওনার সময় কাটে। যাকে বলে ফেভারিট পাস্ট টাইম। তবে উনি ভুল মেরে গেছেন যে টাকা খরচ না করলে তো সেই টাকা অচল হয়ে যায়।

গোয়েন্দা বরদাচরণ রাজা গোবিন্দনারায়নের ছোটবেলায় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ছেলে কন্দর্পনারায়ণকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তিনি ডাকসাইটে, পরম দাইত্বশীল, কর্মঠ , কাজী পুলিশ। উনি সাধারণত: কোনো বাড়িতে সামনের দরজা দিয়ে ঢোকেন না। পিছনের দেয়াল টপকে ঢোকেন। এটা নাকি গোয়েন্দাগিরির একটি মৌলিক প্রিন্সিপাল। বরদার দৃঢ় বিশ্বাস যে রাজকুমার কন্দর্পনারায়ানকে খুঁজে বার করার ক্লু   মনোজদের বাড়িতেই কোথাও পাওয়া যাবে। এই বিশ্বাসের  মূল স্তোত্র কী বলা মুস্কিল। 

নিশি দারোগা ততোধিক আদর্শবান ও এক্সপেরিয়েন্সড থানার হেড।তিনি কাউকে ছেড়ে কথা কন না। 

গোল বাঁধলো যখন ভজ বাবুর হাতে একটি পিস্তল এসে জুটলো। পিস্তলটি আর কারো নয় বরদা বাবুর। ভীরু যখন অস্ত্রধারক  হয় তখন তাঁর পৈশাচিক মনোবৃত্তি বন্ধনহীন হয়ে যায়। ভজ বাবু পিস্তল যুক্ত হয়ে সর্ব রকম কুকীর্তির নিষ্পত্তি করার প্রতিজ্ঞা করেন । সুদখোর মহাজনী কারবারী, যারা বাজারে গিয়ে দর দাম না করে কিনে  জিনিসপত্রের দাম অহেতুক বাড়িয়ে তোলেন ( বিশেষ করে শার্দুল বাবু), কানাই মাছ ওয়ালা যে ভজ বাবুকে দেখে ভালো মাছ লুকিয়ে রাখে - এ সকল দুর্বৃত্তদের গান পয়েন্টে ওঠ বস না করিয়ে ভজ বাবু ঠিক করলেন দম নেবেন না। কানাই আবার রাতে ডাকাতি করে। তাঁকে ধরতে গিয়ে ভজ বাবু পড়লেন ডাকাতদের মাঝে। কিন্তু ভজ বাবু তখন নব সমাজ সৃজনে প্রতিশ্রুত।  

ডাকাত দলের বড়ো সর্দারের আবার সেরাতে জ্বর হওয়াতে ডাকাতি মেজো সর্দার লীড করবে ঠিক ছিল । মেজো সর্দার কে ঠিক ডাকাত বলে মনে হয় না। যুবকটি অন্য ধরনের দেখতে। সে ঠিক করলো ভজ বাবুই আজ রাতে ডাকাতদের লীড করবেন। ভজ বাবু সর্বতের (ডাকাতদের দেওয়া) ঘোরে তৎক্ষণাৎ রাজি হয়ে গেলেন। আর কি ? ধুন্ধুমার ব্যাপার।

এদিকে নিশি দারোগার কাছে ভজ বাবুর দ্বারা পীড়িত অনেক লোক কমপ্লেন করাতে তিনি পুলিশ বল সমেত মানোজদের বাড়িতে ওয়ারেন্ট নিয়ে হাজির। ভজ বাবুকে গ্রেপ্তার করবেন। এখানে শুচিবাইগ্রস্ত ঠাকুরঝির কথা বলা হয়নি। তিনি ভোর বেলা গোবর ছড়া দিয়ে বাড়ি পরিষ্কার করেন। সন্ধ্যেবেলা পুলিশকে নোংরা বুট জুতো পড়ে বাড়ির  ভিতরে প্রবেশ করতে দেবেন না। শুরু হলো এক আজব যুদ্ধ। ঠাকুরঝি ভার্সাস পুলিশ। লাঠি হাতে ঠাকুরঝি পুলিশদের রুখে দাঁড়াতে মনোজ সরোজ প্রমাদ গুনলো। 

মেজকার ডাক পড়লো সিচুয়েশন সামলাতে।  তিনি সমর স্থলে নামিয়ে দিলেন এক দল গরিমান - গরিলা + হনুমান! সে এক দেখার মত দৃশ্য!! এই জীবগুলো তাঁর নিজস্ব এক্সপেরিমেন্টের ফল প্রসূত।

ওদিকে রাজপ্রাসাদে পৌঁছে ডাকাত দলের মেজো সর্দারের রাজা গোবিন্দনারায়ণের পূর্বপুরুষদের অতিকায় জলছবি দেখে কেমন যেন মনে হতে লাগলো এই প্রাসাদে সে আগেও এসেছে।

গল্প প্রায়: বলেই ফেললাম।  কিন্তু এখনো ক্লাইম্যাক্স অভি বাকি  হ্যায় মেরে দোস্ত এবং তার জন্য পাঠকদের পড়তে হবে স্বানামধন্য ঔপন্যাসকার শ্রী শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা ছোটদের জন্য  "মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি " নামক ভারী মজার বইটি। 

আমার ছোটদের বই পড়তে ভালো লাগে। তাই পড়ে  ফেললাম।  শীর্ষেন্দু বাবুর লেখার গুণাবলী সম্বন্ধে মন্তব্য করার ধৃষ্টতার সাহস আমার  নেই. তবে পড়তে গিয়ে যেই  জিনিস গুলো নজর কাড়ে  সেগুলির কথা নিশ্চয় বলব:

বইটি লেখা জলের মতন - চ্যাপ্টারের বন্ধন নেই।  তাই এক ঘটনা থেকে দ্বিতীয় দুর্ঘটনায় কাহিনী লাফিয়ে লাফিয়ে চলে। 

অনেক পার্শবর্তী  চরিত্র আছে যাদের কথা আমি এখানে উল্লেখ করিনি কিন্তু তাঁরাও মজার ও গল্পে অনাবশ্যক মনে হয় না। 

যদিও বইটির নাম "মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি" কিন্তু গল্পে মনোজের বিশেষ কোনো রোল নেই।

মনোজদের বাড়িতে কন্দর্পনারায়ানের ছবি কী করে এলো এবং তার খবর বরদা ডিটেকটিভ কী ভাবে   পেলো তা লেখক খোলসা করেননি। 

বরদা এতো বছর ধরে যাকে খুঁজছিলো সে নাকের ডগায়ই ডাকাতেদের দলে বিদ্যমান - এটা  প্লটকে একটু অগোছালো করে।  

বইটি হাস্যরসাত্মক, ব্যাঙ্গাত্মক ও কৌতুকাত্মক। পড়লে টেনশান দূর হয়।  মন মেজাজ ভালো হয়ে ওঠেই।   

গল্পের চরিত্রগুলোর সঙ্গে রিলেট করা মোটেই শক্ত নয়।  তারা আমাদের আশেপাশে পাওয়া যাবে।  

আমার এই প্রথম শীর্ষেন্দু পড়া।  ভালো লাগলো তাই একটা ছোটোখাটো রিভিউ লিখলাম। বাংলা গল্পের বইয়ের রিভিউও আমার এই প্রথম লেখা। 

সব প্রথম মিলেমিশে একাকার না হয়ে যায় তাই এখানেই ইতি টানলাম। ও হ্যাঁ! বলতে ভুলে গেছি হৈচৈতে এই বৈয়ের ভিত্তিতে বানানো চলচ্চিত্রটিও দেখতে পারেন।

ভালো থাকবেন ও ভালো লেখা পড়বেন। 

আশা রইলো। 

Friday, October 07, 2022

ভাগ্যিস !!





এরকম একটা ব্লগ  টাইটেল দেখে ঘাবড়াবেন না। টাইটেল টার যথাযথ একটা কারণ আছে। সৃজিত বাবুর ওয়েব সিরিজ "রবীন্দ্রনাথ কখনো এখানে খেতে আসেননি" যারা দেখেছেন তারা বুঝবেন । যারা দেখেননি তারা ভাগ্যবান। আমি গোগ্রাসে গিলেছি কারণ শুরুটা থ্রিলার মার্কা ছিল। তার উপর রাহুল  বোস অ্যাজ সিবিআই অফিসার চোখের তৃষ্ণা মেটাচ্ছিল। নয়ন সুখ আর কি !! আমার এই বুড়ো বয়সেও। তবে কি জানেন সৌন্দর্য্যের অ্যাপ্রিসিয়েশন বয়স মানেনা। এখানে পৌরুষ শব্দটা বেশি প্রযোজ্য। অনির্বাণ অ্যাজ্ আতর আলি মাৎ করে দিয়েছে।

গল্পে আসি? এখন কথা হলো গল্পের গরু গাছে চড়ে  তবে আপনি লেখক হিসেবে গরুকে যদি মগ ডালে পা ঝুলিয়ে বসিয়ে দ্যান তাহলে গুল্প  আর গল্পে বেশি ফারাক থাকে না।

নিরুপম চন্দ মহাকাল পত্রিকার সাংবাদিক, সুন্দরপুর নামক পূর্ব ও পশ্চিম বাংলার বর্ডারের কাছাকাছি স্থিত শহরতলীতে (?) একটি হোটেলের প্রচুর নামডাক শুনে খেতে আসেন। ক্রমশঃ প্রকাশ্যমান তিনি খাবারের চাইতে বেশী ইন্টারেস্টেড খাবার রাঁধুনি (মহিলা শেফ) ও হোটেলের মালকিন সম্বন্ধে যার চারপাশে জড়িয়ে আছে নানান গুজব ফ্রম রক্ত পিশাচিনী টু ডাকসাইটে ওয়েল কানেকটেড রহস্যময়ী নারী ।  মহিলাটি আবার দারুন রবীন্দ্র সংগীত অনুরাগী এবং যখন তখন, বিশেষ করে মাঝ রাত্রে, স্থান কাল পাত্র বিবেচনা না করে, "আয়েগা আনেওয়ালা" স্টাইলে সিচুয়েশন অনুযায়ী গান (রাবীন্দ্রিক ন্যাচারালি) গাইতে শুরু করেন। এমন কি মৃত দেহ গোর দিতে দিতে ও!! বুঝতেই পারছেন দা গরু ইজ ক্লাইম্বিং আপ দা ট্রী। 

এখানে বলা বাহুল্য এই হোটেলে কিছু মাসের মধ্যে কয়েক জন যুবক খেতে এসে নিরুদ্দেশ হয়েছে।  তাঁদের মধ্যে একজন  বাংলাদেশের মন্ত্রীর ভাগ্নে না ভাইপো ঠিক মনে নেই - মানে একজন কেউকেটা। স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের পশ্চিম বঙ্গ সরকার এই রহস্য উদ্ঘাটন করতে  উদগ্রীব।  কিন্তু যেই মহিলা আন্ডার দা স্ক্যানার তাঁকে সচরাচর পাবলিকে দেখা যায় না।  শুধু তাঁর আতিথ্য গ্রহণ করতে গন্যমান্য ব্যক্তিরা গাড়ি করে আসা যাওয়া করেন।  বুঝতেই পারছেন ব্যাপার স্যাপার ''হাইলি সাস্পিশিয়াস''।

এর পর আরো চমকপ্রদ কিছু তথ্য সামনে আসে যেমন নিরুপম চন্দ ইজ নট এ সাংবাদিক বাট এ সিবিআই অফিসার যেটা  অ্যাকচুয়ালি প্রথম থেকেই যারা ভারতীয় (মানে হিন্দি, বাংলা ইত্যাদি) ছবির পোকা তাদের বুঝতে মোটেই অসুবিধা হবে না। আমি তো আবার সাব টাইটল পড়ে পড়ে ইংরেজি সিনেমাও দেখি। আমার তো কথাই নেই। 

গল্পটির লেখক (মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন) কি খেয়ে গল্পটি লিখছিলেন জানিনা। আমার ও পার বাংলার সৃজনীশীল মানুষদের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা আছে। সৃজিত বাবু ওয়েব সিরিজ করতে গিয়ে গল্পটিকে অবলম্বন করেছেন মাত্র। আমার বিশ্বাস এতে ওনার নিজস্ব মাল মশলা মানে ইন্টারপ্রিটেশন ও বহুত থাকতে পারে এতে  কোনো সন্দেহ নেই। তাই গল্পটা না পড়ে লেখকের প্রতি কোনো মন্তব্য করা সমিচীন নয়। অতএব স্পিক টি নট।

মানুষ যে সবচেয়ে স্বার্থপর ও মানসিক স্তরে অসুস্থ জীব এটাই বোধহয় এই গল্পের মূল ভিত। মনে আছে এই বাস্তব সত্যটির উপর লেখা শ্রী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের  একটি ছোট গল্প আমাদের পাঠ্য পুস্তকের অংশ ছিল। তবে সেই গল্পের কাঠামো অন্য, বক্তব্যের মিল থাকলেও মানসিক স্তরের অসুস্থ্যতাটা মূল্যায়নের বাইরে ছিল, ভাষার সৌন্দর্য ও শালীনতা  গল্পের সারকে আরো মর্মান্তিক করে তুলেছিল। 

সৃজিতের ওয়েব সিরিজের মূল্যায়ন আমার স্বল্প ক্ষমতার বাইরে। এই গল্পের (খল) নায়িকা পরিস্থিতির শিকার না জন্মগত ডাইনির ডি এন এ আক্রান্ত বলা মুশকিল। তবে তার স্ক্রীন প্রেসেন্সের  শট গুলি অত্যধিক ঝাপসা ও অতীব  লাল রঙের ব্যবহার রক্তাক্ত কারবারের ইন্ডিকেশান না সাসপেন্স ক্রিয়েশনের ফর্মুলা না অন্য কিছু আমার বোধগম্যর বাইরে। হয়তো আমার এই বিষয়ে কিছু লেখাই উচিত নয় কারণ সিনেমাটিক ল্যাঙ্গুয়েজের বা ভাষার উপর আমার কোনোই দখল নেই। আমি লিখছি একজন লে-পার্সন বা ভিউয়ার হিসেবে। আমার আফসোস একটাই এই ঝাপসা লালের মাঝে নায়িকার মানে মুস্কান ঝুবেরি চরিত্রের জামদানির কালেকশান ও কিছু-না-পড়লেও-চলত ব্লাউজ গুলো ভালো ভাবে দেখতে পেলাম না। আবার সেই ঝাপসালোকেই একটা সায়েন্স ল্যাবরেটরির মতন কিচেনে মহিলা রাবীন্দ্রিক অঙ্গে গান গেয়ে গেয়ে মাথার ঘিলু ফ্রাই করে চলেছেন - ওই মানে কোনো নতুন ডিশের এক্সপেরিমেন্ট করছেন  ..... না অন্য কিছু?

তবে পিশাচিনীর  সেন্স অফ এথিক্স আর ই আর মানে এমপ্লয়ী রিলেশন যেকোনো কর্পোরেট কে হার মানাতে পারে।  যারা ওঁর ওয়াফাদার তাঁদের  মন প্রাণ ধন দিয়ে বাঁচানোর প্রচেষ্টা খুবই টাচিং !

শেষের দিকের এপিসোড গুলোর শুরুতে দেওয়া ডিসক্লেমার  - নিজের হৃৎপিণ্ড সামলে পরের  দৃশ্যগুলো দেখবেন কারণ সে গুলো অসম্ভব রকম ভয়াবহ - আমার মত কঞ্জেনিটালি ভিতু লোককেও ভয়ার্ত করতে অসমর্থ হলো কারণ এগেন সৃজিত বাবুর আধো আলো আধো আঁধারিতে কিস্যুই বোঝা গেলো না শুধু সংলাপই গল্পের দড়ি টানলো এবং গোটা ব্যাপারটা বোঝা গেলেও একটু অতি মাত্রায় ওই সীন গুলোকে টেনে লম্বা করে ভয়ের চাইতে বোরিং বেশী করে ফেললেন নির্দেশক। আবার বলবো স্ক্রিনপ্লে অত্যন্ত প্রেডিকটেবল। এবং আলো আঁধারির এস্থেটিক্স বুঝতে গিয়ে চোখের মণির ব্যথা বাড়লো।

কিন্তু সিবিআই সাহেবের টেম্পোরারি স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়াটা কি নিতান্তই প্রয়োজন ছিল?  সেই মাল্টি স্টোরিড  বিল্ডিংয়ের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে চিল চিৎকার ?  পিশাচিনীর সম্মুখীন হয়ে চেয়ারে বসে ব্রেক ডান্স ? সৃজিৎদা এ কি করলা  ? আমাগো হি ম্যানরে এত্ত আনডিগনিফাইড পস্চার গুলিতে না দেখালে কী চলত  না ? এখানে কিছু লিগ্যাল প্রশ্ন ও উঠে আসে। বাঘ কে সে কেন ছাগ শিশু শীকার করে খায় এই নিয়ে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায় কি? তেমনি ভ্যাম্পায়ারের উপরে কি কেস করা যায়? এই দ্যাহেন কথায় কথায় একটা স্পয়লার দিয়া দিলুম। কিসু মনে করবেন না য্যান।

সৃজিত বাবুর সব সময় বড় বড় আর্টিস্ট নিয়ে কারবার। অঞ্জন দত্ত কে আমার ভালো লাগে - তাঁর কিছু কিছু গান, পারফরম্যান্স, স্ক্রীন প্রেসেন্স, গলার আওয়াজ। অনেক বছর আগে ওকে সামনাসামনি দেখেছি। মেক আপ করা মুখ। চোখের তলায় ব্যাগস। এখন বয়স হয়েছে ভদ্রলোকের। হয়তো সেই কারণেই ব্যাগ গুলো আরো প্রমিনেন্ট হয়ে প্রায় ঝুলে পড়েছে। মনে হচ্ছিল চশমার তলা থেকে বেরিয়ে আসবে। এ ব্যাপারে কি কিছুই করা যায় না ? উনি পাবলিক ফিগার। চেহারায় চাকচিক্য না হোক অ্যাট লিস্ট স্বাস্থ্য সম্বন্ধে একটু সতর্ক ও সচেতন হওয়া কি যায় না অঞ্জনদা?

সমীক্ষান্তে বলি এ পার হোক কি ও পার হোক পুলিশ যে কতখানি অপদার্থ তা সর্ব সমক্ষে আবার তুলে ধরার জন্য থ্যাংকু লেখক ও নির্দেশককে।  

আর সর্বান্তে  ভালো করেছেন কবিবর এই রসনাগারে চরণ ধুলি দেননি। যদি দিতেন তাহলে ওনার লেখা তিন হাজার গানগুলো কে লিখতো? আর অজস্র কবিতা, চিঠি , ছবি,  গল্পো, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নৃত্য নাট্য, গীতি নাট্য আরো কত কি? তাই ভাগ্যিস!!



Friday, September 16, 2022

মুষিক পুরাণ


আমাদের নিচের তলার ফ্ল্যাট। তাই প্রায়ই বাড়িতে ছোট  বড় নানান সাইজের ইঁদুর ঢুকে পড়ে। খেলাধুলা করে। নাচানাচি করে। আমার পোষ্যটি দার্শনিকের মতন তাকিয়ে তাদের নাচাকোদা, ছোটাছুটি দেখে ফোত করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। ল্যাও ঠ্যালা। 

ফ্ল্যাটের সামনেই পার্ক। সেই পার্কে আবার বিশাল বড় বড় সাইজের ইঁদুর, যাদেরকে ইংরেজিতে রোডেন্ট বলে, লাফিয়ে বেড়ায়। ব্যালকনিতে রাত্রে তাদের ডাকাডাকি, হুড়োহুড়ি শোনা যায়। চিকার দল ও আছে। তাদের কথোপকথন কানে আসে। এদের মধ্যে কোনটি যে গাড়ির মধ্যে ঢুকে তার কাটে, পাইপ কাটে বলা মুশকিল। তবে এ ঝঞ্ঝাট ও  আমাকে একাধিকবার পোয়াতে হয়েছে। 

মুষিকের আগমনে ইঁদুর কল, আঠা দেওয়া বই যাতে ইঁদুর চিপকে যেতে পারে ইত্যাদির ব্যবস্থা বাড়ির ভিতর রাখা অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

কিন্তু এত সব ব্যবস্থা সত্বেও এবার যাঁর  চরণ ধুলি আমাদের বাটিতে পড়েছে সে যে মহা ধুরন্ধর তা বেশ ভালোই বোঝা যাচ্ছে। ইঁদুর কলে ঘী দেওয়া রুটি থেকে মাংসের টুকরো দিব্যি সে আত্মসাৎ করে আমাদের কলা দেখিয়ে আশেপাশে ল্যাজ উঠিয়ে নির্লজ্জের মতন খেলে বেড়াচ্ছে। দেখে গা জ্বলে যাচ্ছে। অথচ কিচ্ছুটি করার উপায় নেই কারণ আমার "সক্রেটিস" পোষ্য নির্বিকার চিত্তে তাঁকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। একবারও থাবা উঠিয়ে শাসানো তো দূরের কথা ভৌ ভৌ পর্যন্ত করছে না।

শেষ পর্যন্ত আঠা লাগানো বইটিই কাজে এলো। ঘুরন্ত জামাই ( মহিলা কিনা জানিনা তবে জামাই আদরে বাঁদর হয়ে যাচ্ছে তাই জন্যে আর কি...) শেষে আঠা যুক্ত বইয়ে ধরা পড়লো। তাঁর শেষ সৎকার মানে তাঁকে বই থেকে ঝেড়ে পার্কে ফেলে দিয়ে নিশ্চিন্ত হলাম। তবে আঠা মুক্ত হয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা খুব একটা সুখকর ছিল না। প্রায় নির্জীবই বলা চলে। দুর্ভাগ্য বসত: এক জোড়া কুকুর তাঁর পিছন নিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ইন্দুরটির কী দশা হয়েছিল বলতে পারবো না।

তবে তাঁর দুর্বল শরীর দেখে কষ্ট হচ্ছিল। যাইহোক জীব তো ! আর জীব হত্যা মহাপাপ। মানুষের জীবনের এটাই সবচেয়ে বড় contradiction।  যা সে পায় না বা যতক্ষণ পায় না ততক্ষণ সে ছটফট করে নানা বিধ উপায়  খোঁজে তাকে পাওয়ার  - তা সে কোনো প্রাপ্তি হোক বা বিপদ থেকে মুক্তি হোক। কিন্তু সফলকাম হয়েও সন্তুষ্টি থেকে সে ক্রোশ দূরে থাকে হয় আরো পাওয়ার লোভে বা পেয়েও অশান্ত চিত্ত হয়ে আর বিবেকের তাড়নায়  ছটফটিয়ে।

আশা করি একটি মুষিকের শেষ কৃত্যের ভাগী হয়ে আমি যেই দর্শন লাভ করেছি তদ্দারা আপনারা যথাযথ অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ  বোধ করবেন।

আচ্ছা রাখি তাহলে ..  

Friday, May 13, 2022

লাছুরি

 

আমার জীবনে কিছু দুক্কু  বরফের ড্যালার মতো জমা পড়ে আছে।  আজ সেগুলির একটা লিস্টি তৈরী করব ঠিক করেছি :

দুক্কু নম্বর ১

এটা আমার ছোটবেলার  দুক্কু 

আমাকে কেউ গান গাইতে বললে আমার স্মৃতি শক্তি ও গলার আওয়াজ দুই ই  লোপ পায়।  "কী গাব আমি কী শোনাবো ..." ছাড়া আর কোনো গান আমার মনে পড়ে না।  অথচ আমার চিরকালের স্বপ্ন  আর ডি বর্মন 'আমাগো  বাসার' সামনের রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে হারমোনিয়ামে আমার  সা - রে - গা - মা - পা - ধা - নি - সা রেওয়াজ শুনে বাড়ীর কলিং বেল বাজিয়ে আমায় কোলে তুলে নিয়ে একেবারে বোম্বে পাড়ি দেবে। কিন্তু  হলো না ..

দুক্কু নম্বর ২

ইটা আমার মেয়েবেলার  দুক্কু 

কত মেয়েরা কী সুন্দর ভাবে টান -টান করে মডেলের মতন শাড়ি পড়ে , মেক আপ করে , মিষ্টি দেখায়  ...আমি শত চেষ্টা করেও পারি নিকো।  ঠোঁটে লিপিস্টিক মাখলে কালো কালো ছোপ পড়ে।  চোখে কাজল আঁকলে চোখের তলায়  কালি  আরো প্রবল গাঢ় দেখায়। ফাউন্ডেশনের গন্ধ আমার সহ্য হয় না  - মাথা ধরে...গা ঘিন ঘিন করে   তাই এই দুক্কুটাও রয়ে গেলো গো  ...

দুক্কু নম্বর ৩

এটা আমার ধিরে ধিরে গড়ে ওঠা দুক্কু 

ছোটবেলায় আমি ভীষণ  লাজুক ছিলাম।  কেউ কোনো বাজে কথা বললেও তার উত্তর দিতে পারতাম না  - খুব খারাপ লাগতো।  দিনের পর দিন সেই বিষ মাখা কথাগুলো মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেত।   আর আমি উত্তর না দিতে পেরে মনে মনে গুমরাতাম।  তারপর উত্তর দিতে শিখলাম, রাগ করতে শিখলাম, রাগ দেখাতে শিখলাম এবং শেষ-মেষ রাগে ফেটে পড়তে শিখলাম।  ক্রোধ শনি  ... কে না জানে?  রাগের চোটে  মাঝে মধ্যেই   মাথা দপদপাতে শুরু করতে লাগলো . তখন রাগ কমাবার পন্থা গুলো অবলম্বন করতে শুরু করলাম।  পুরোপুরি ক্রোধ সম্বরণ করতে না পারলেও ভিসুভিয়াস হই  না আর বা হতে হতে থেমে  যাই. কিন্তু আমার দুক্কু হলো কিছু কিছু লোক দেখি কী সুন্দর রাগ চেপে রেখে মিষ্টি মিষ্টি করে  পিচিয়ে পিচিয়ে কথা শোনাতে  পারে তারপর কী অমোঘ কৌশলে ঝোপ বুঝে কোপটি মারে। আমি কেন তা পারিনা ? একদম পারিনা।

দুক্কু নম্বর ৪

 এটা আমার মানে এক্কেবারে এক্সেপশনাল  দুক্কু 

আমি অহেতুক এবং অনিয়ন্ত্রিত অন্তরঙ্গতা বা ভাবপ্রবণতা হ্যান্ডেল  করতে পারি না।  টু মাচ ইমোশন একেবারে নো নো।  মানে ওই ভাবের ফানুশ হয়ে গলে গলে  - ও:! এটা আমার দু:খ না অক্ষমতা ঠিক বলা কঠিন। মানে আমাকে যদি কেউ প্রেম নিবেদন করে - ভাগ্যিস কোনোদিন কেউ করে নি - আমার যে কী  প্রতিক্রিয়া হবে বা হতো  বলা মুস্কিল। একবার এক পাড়ার ছেলে  রাস্তায় আমাকে ,"আপনাকে অনেক কথা বলার আছে কিন্তু কেমন করে বলি বুঝতে পারছি না। .."  বলাতে আমি " তাহলে আর বলে কাজ নেই " বলে হনহনিয়ে চলে গেছিলাম।

দুক্কু নম্বর ৫

এটা আমার বড়বেলার দুক্কু 

আমি অনেক লেটে  গাড়ী চালাতে শিখি।  তার ও বেশ কিছু বছর পরে গাড়ী কিনি।  যতদিনে গাড়ী কেনার মুরোদ হলো ততদিনে গাড়ি চালানো ভুলে গেছি আর কি।  তারপর আবার শিখলাম। দু বার ই ড্রাইভিং স্কুলের গাড়ীতে।  ও গাড়ীতে কেউ চালানো শিখতে পারে না।  কারণ কন্ট্রোল থাকে পাশে বসে থাকা ড্রাইভারের কাছে। তাই আবার শিখলাম - এবার নিজের গাড়ীতে।  তিন মাসের ট্রেনিং ছ মাসে গড়ালো।  যিনি শেখাতেন তিনি টেনশনে টেনশনে বিড়ি ফুঁকে ফুঁকে গাড়ীতে বিড়ির এমন গন্ধ করে ফেললেন যে গাড়ীতে বসা দায়।  এক হরিয়ানার ড্রাইভার আমাকে শেখাতে  এসে রেগে-মেগে বলেছিলো ,"ম্যাডাম আপনি সব জানেন কিন্তু রাস্তায় বেরিয়ে কিছুই করেন না" - ম্যাডাম করবেন কী করে ম্যাডাম তো রাস্তায় নেবে ভয়ের চোটে বোধশক্তিরহিত হয়ে যান ।  আজকালকার ছোট্ট ছোট্ট মেয়েদের দেখি ততোধিক ছোট্ট ছোট্ট জামা পড়ে বিশাল গাড়ী নিয়ে ভোঁ ভোঁ করে চালিয়ে যাচ্ছে।  দেখে হিংসে হয়।  

দুক্কু নম্বর ৬

এটা আমার বুড়োবেলার  দুক্কু  

এই দুক্কু এমন দুক্কু "বোঝে কে আন জনে  সজনি আমি বুঝি মরেছি মনে মনে " - না কাব্যি করার কিছু নেই।  তবে এটা ঠিক যে এই দুক্কু নিয়েই আমি গত হব।  আমি কনজেনিটালি ওভারওয়েট।  ছোট্টবেলায় আমায় কেউ কোলে  নিতে পারতো না।  এখানে ছবি দিতে পারতাম -   থাক।  স্কুল ও কলেজ  এবং পরবর্তি  চাকুরী জীবনে আমি তন্বি হিসেবে খ্যাত ছিলাম।  তিরিশ পেরিয়ে সেই যে খেতাব হারালাম এখন ওইয়িং মেশিনে পা রাখতে ভয় হয় যদি ভেঙে যায় - লজ্জা . লজ্জা।  তবে একবার ডায়েট করে ১৫ কিলো ওজন কমিয়ে ছিলাম।  পাড়া প্রতিবেশীরা চিন্তিত স্বরে জিজ্ঞেস করতো , "তুমি কী অসুস্থ ?" তারপর শরীর এমন খারাপ হলো - গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট বললেন "ডায়েট করে কাম নাই।  নর্মাল খাবারে ফিরে  আসেন"।  আর আমি সেই যে ফিরলাম আর যাওয়া নাই।  তবে আমার এজেন্ডা না খেয়ে মরার নয় - . আমি খেয়ে বাঁচতে এবং মরতে চাই. - আই হোপ ভগাদা আমার এই ইচ্ছে টুকুর মান রাখবেন। 

যাক অনেক দুক্কের কথা ঢাক পিটিয়ে বললাম  .

 তবে এটা  জরুরি ছিল নয়তো আমার ববম হাজামের মতো অবস্থা হচ্ছিলো। পেট ফুলে ঢোল। 

বয়সটাও এমন .. হঠাৎ করে টেঁসে গেলে ভ্রাম্যমান পেত্নী হয়ে "কাকে বলি...কাকে বলি " করতে করতে মর্তলোকে ঘুরে বেড়াব আর যার তার কানে ফিসফিসাব।  

তাই আর কি লিখে রেখে গেলুম 


হালুম এন্ড হুলুম। 

Wednesday, April 20, 2022

দিশারী



আমার আবার দিক্ভ্রমের বাতিক আছে। 


এই  একটি কারণেই আমি গাড়ী ড্রাইভ করি না বললে ভুল হবে তবে এটা  অনেক গুলো কারণের  মধ্যে একটা ।  যেহেতু  আমার  চলন্ত যেকোনো বাহনে একাগ্রতার অভাব হয় সেহেতু দিক ভুল করা ও যে অসম্ভব নয় তাও নিশ্চিত। এই অদ্ভুত ব্যারামে অনেক ভোগান্তি আমার হয়েছে। কিছু কিছু ঘটনা বলি - 

বাড়ীর কাছের গলিতে ভুল করে ঢুকে পড়ে  ঘুরপাক খেয়েছি বহুবার।  বহুত রাস্তা ভুল করেছি। গলত  টার্ন নিয়েছি। আপনজনদের হাঁসি ঠাট্টার খোরাক হয়েছি।

একবার অটোতে বসে ডান  দিক বলতে বাঁ দিক বলে ফেলেছিলাম। অটো চালক রাগতঃ স্বরে  আমায় নিজের ডান  দিক  বাঁ  দিক ঠিক করে নিয়ে তারপর তাকে ডাইরেকশন দিতে  বলেছিল ।

 একবার রিক্সা করে বাড়ী ফিরছি হঠাৎ মাথাটা গড়বড় করে বসলো। তখন আমি পশ্চিম বিহারে থাকি। এই এলাকার সবচেয়ে বড়  মার্কেট জোয়ালাহেড়ী  থেকে সোজা নাক বরাবর গেলেই জী -এচ ১৪ ব্লকে  আমার বাসা ... কিন্তু কেন জানিনা সব গুবলেট হয়ে গেলো। তখন ভর  দুপুর। রিকশাওয়ালাকে খুব ঘাবড়ে গিয়ে বললাম ভাই আমার বাড়ীটা তো এখানেই ছিল।  কোথায় চলে  গেলো জানিনা। বিহারী রিকশাচালক রসিক ছিল, বললে "সারা দিন পড়ে আছে, খুঁজে নিন। " ভাব ..

তবে তৃতীয় ঘটনাটি মারাত্মক হয়েছিল। ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ নিয়ে রাস্তায় নেমে ছাই রঙা ওয়াগন আর  দেখে দরজা খুলে ড্রাইভারের পাশের  সিটে  বসেই  হুকুম দিলাম, "চল "...গাড়ী স্টার্ট দিচ্ছে না দেখে পাশে তাকিয়ে  দেখি একটি গোল পানা অচেনা মুখ -  শ্যামল বরণ , একজোড়া হৃষ্টপুষ্ট গোঁফ আর বড় বড় বিস্ফারিত  চোখ।  বিস্ফারিত বলবো না -  বিস্মিত  , অভিভূত , রোমাঞ্চিত - সব কিছু মেলানো সেই  লোম খাঁড়া করা দৃষ্টি  কী বলবো আর !!  আমি সেকেন্ডের মধ্যে বাইরে।   

আর একটি ছাই রঙা ওয়াগন আর পিছনে দাঁড়ানো দেখে বুঝলাম কোথায় গন্ডগোলটা করেছি। এর পর থেকে নিজের গাড়ীতে বসার আগে গাড়ীর  নম্বর চেক করার  অভ্যাস করেছি। কিন্তু নম্বরেও যদি গোল করি তাহলে আর কী কী পন্থা আছে এই ব্যারাম থেকে মুক্তি পাওয়ার ভাবতে হবে..

হ্যাঁ ..আরেকটা  কথা 

যেই অচেনা ভদ্রলোকের গাড়ীতে বসে পরম আত্ম-বিশ্বাসের সঙ্গে গাড়ী চালানোর হুকুম দিয়েছিলাম তাঁর স্ত্রী গাড়ীর  কাছাকাছি ছিলেন কিনা জানিনা। একজন আজনবি মহিলাকে গাড়ীতে বসে কিছুক্ষন পরে ছিটকে বেরিয়ে আসতে দেখে তাঁদের বৈবাহিক জীবনে পরবর্তীকালে কোনো গোলযোগ বেঁধেছিলো  কিনা  সেটা জানার ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও জানবার কোনো সুযোগ বা উপায় হয়নি । 

হবে কী করে ? ভদ্রলোককে আরেকবার পথে-বিপথে দেখে চিনতেই পারবো না।  তবে হ্যাঁ। .ওনার সেই অবিশ্বাস্য ভরা কেতো -কেতো  চাহনি জীবনে ভুলবো না....... ... সেটা ঠীক।  

Monday, April 18, 2022

বয়:ধর্ম


       
বয়স বাড়ছে ..না: ...হলো না...বুড়ো হচ্ছি বুঝতে পারছি। 

সকালে ঘুম থেকে উঠে আবার গা এলিয়ে দিতে ইচ্ছে করে ..বিছানায় 

চা খেতে বসে মনে হয় আরেকটু বসে থাকতে পারলে  বেশ হতো .. সোফায় 

রান্না ঘরে ঢুকে মনে হয় উফ আবার রান্না ..ধ্যুত !

অফিসে না যেতে পারলে কেমন হতো ..ভালোই হতো আর কী ?

গাঁটে গাঁটে নানা প্রকারের ব্যাথা বেদনার কথা নাই বা পারলাম ..

অনেক কিছু আগে খেতে ভালো লাগতো .. রসিয়ে রসিয়ে রান্না করে  আঙ্গুল চেটে খাওয়া  - উঠে গেছে। পেটে   সয় না .

আয়নার  সামনে  অনেকক্ষণ  ধরে  দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখতে ভালো লাগতো  নানান এঙ্গেলে ... এখন চুলের পাক ধরাটা বেশি নজর কাড়ে ..সরে আসি।  কাকে দেখছি ? এই কি সেই আমি????

খুব তাড়াতাড়ি  বিরক্ত  হয়ে যাওয়ার বাতিক  হয়েছে..মনে হয় চুপ করে বসে থাকি ..ওই লোকটা কী যে ঘ্যান ঘ্যান করছে  .... সে যেই হোক না কেন 

একটা ভয় ঢুকেছে . এর পরে কী হবে ..আজ যেটা করতে পারছি কাল যদি না পারি তবে ?

নার তালিকাটা লম্বা হয়ে যাচ্ছে ..

দুপুরে নাক ডেকে ঘুমোবার স্বভাবটা চিরকালের।  এখন সেটা বিপজ্জনক লেভেলে  দাঁড়িয়েছে। যেকোনো সময়  যেখানে ইচ্ছে। 

সে যেখানেই হোক ঘুমে ঢুলে পড়তে দেরি  লাগে না।  একদিন তো ক্যাবে..  ড্রাইভার মশাই আগেই দর দস্তুর করে নিয়েছিল - সিএনজির দাম বেড়েছে।  আপনি যদি এসি চান তাহলে আমাকে ডাইরেক্ট পেমেন্ট করে দিন. আমি বললাম না এসির দরকার নেই. বলতে বলতেই ঘুমে ঢুলে পড়লাম। গাড়ির খোলা জানালা দিয়ে "প্রখর তপন তাপে ..এ .এ .এ " এমন ভাবে নাক ডাকিয়ে কেউ ঘুমোতে পারে ক্যাব চালকের বোধহয় ধারণার বাইরে।  অনেকবার ধুম ধুম করে ব্রেক কষেও  জাগাতে না পেরে গম্ভীর মুখে আমায় অফিস অবধি ছেড়ে দিয়ে বোধ করি  স্বস্তির নি:শ্বাস ছেড়ে বেঁচেছে। 

আরও অনেক এরকম ছোট ছোট ব্যাপারে বুঝতে পারি পৃথিবীতে অনেক দিন কাটিয়ে ফেলেছি। 

কিন্তু এখনো "সাধ  না মিটিল আশা না পুরিলো সকলি ফুরায়ে যায় মা ..আঁ  ..আঁ  ..আঁ "

গলায় আজকাল  তেরোটা সুর খেলছে  - এ টা আরেকটা ইন্ডিকেশন..

এবার  রাখি 

আর বোর  করবো না। 

Monday, April 04, 2022

কুঞ্চি-বুঞ্চির মা ডেপি




"আরে ! কী  খবর ? কেমন, ভালো তো ?"

"হু:! আর কী  ভালো?"

"কেন ? আবার কী  হলো ?"

"হলো মানে ? আপনি জানেন না?"

"কই  না তো ?"

"এঃ ? কোথায়  থাকা হয় মশাইয়ের ? কোনো খোঁজ খবরই  রাখেন না দেখছি।  পাড়ায়  কী  হচ্ছে না হচ্ছে .....যায় আসে না বুঝি ?"

"যায় আসে না মানে? যায় আসবে না কেন বলছেন?"

"বা রে ! এতো বড়ো কান্ড ঘটে গেলো আর আপনি কী মশাই খোঁজই রাখেন না। "

"আরে কী মুশকিল ! কী হলো তা না বলে আবার সেই আবোল তাবোল..."

"শুনবেন ? শুনতে চান?"

"হ্যাঁ ! হ্যাঁ রে হ্যাঁ ! বলুনই  না কী ব্যাপার... "

"তবে শুনুন..আমাদের ডেপি ..কী বলবো মশাই ..ছ্যা: ছ্যা: ...শুনে অবধি...কী বলবো আর (গলা নামিয়ে) ডেপি আমাদের পোয়াতি হয়েছে।  কী  কেচ্ছা ... কী  কেচ্ছা !"

"ছেলেটি ক্যাডা ?"

"সে তো বেপাত্তা। "

"এ: ? কী বলেন মশাই ?

" তাও জানেন না মশাই ? আপনাকে নিয়ে আর পারা গেলো না।  এত  বড় একটা কান্ড ঘটে গেলো পাড়ায়  আর আপনি...."

"কী করবো বলুন ? চাকুরে মানুষ।  সকালে বেরিয়ে রাত্রে ফিরি। কী  করেই বা এতো খবর রাখি বলুন ? তা মা আর বাচ্চা ভালো তো? দেখাশোনার ভার তাহলে কে বা করা...."

"আরে ছাড়ুন মশাই।  আবার দেখাশোনা। সারা পাড়া  দেখা শোনা করছে।"

"সারা পাড়া ? সমাজের তাহলে উন্নতি হয়েছে বলুন। সবাই মিলে  যখন  ভার সামলাচ্ছে তখন  সামাজিক দায়দায়িত্বর  মাপ বেড়েছে।  কী বলেন ?"

"এঃ ?" কিছুক্ষন ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে , " কী যে বলেন ?শুধু মা নাকি ? তার আবার দু দু খান...আমার উনি আবার আদর করে নাম রেখেছে কুঁচি আর বুঁচি।  উফ আর পারি না। "

"বা: ! খুব সুন্দর  মিষ্টি নাম..."

"হু:"

"তা অন্নপ্রাশন টাশন   কবে?"

"এ:...? কুকুরের বাচ্চার আবার অন্নপ্রাশন ? আপনার মাথা খারাপ নাকি?"

"কু..."

"আপনি  কী ভাবলেন মানুষের? ছো :...ছো: ..."

"উফঃ!  আগে বলবেন তো। তখন থেকে।"

"তবে আরেকটা খবর আছে ," গলা খাটো করে , "সেটা কিন্তূ  মানুষ 
সংক্রান্ত .."

"আরেকদিন শুনবো দাদা।  একটু তাড়ায়  আছি। অফিস যেতে  হবে... চলি। "

হন হন করে এগিয়ে গেলেন।

"যা বাব্বাঃ !" মাথা নাড়তে নাড়তে , "কেমন ধারার লোক।  কুকুরের গল্প এতক্ষন ধরে মন দিয়ে শুনলো।  আসল  কথা শোনার সময় কাজের তাড়া।  হু:..."
 

Friday, October 12, 2018

পথে যেতে যেতে


গত দশ বছর ধরে এই একই পথে রোজ যাতায়াত করছি তবুও কেন জানিনা দেখতে পাইনি। দেখা উচিত ছিল বলবো না তবে না দেখাটা আজব ঠেকছে বটে।  কীরকম করে যে মিস করলাম তাই ভাবছি। ন্যাশনাল সাইন্স সেন্টারের পেল্লায় বিল্ডিং এর মাথায় ডাইনোসোরাসের বিশাল প্রতিকৃতিটা। সবুজ রঙের।  আমার জুওলজির  জ্ঞান কম. তাই  এগজ্যাক্ট স্পিসিটা  বলতে পারবো না. তবে মনে হয় টেরোড্যাকটাইল হলেও হতে পারে।  




আসল কথা হলো - কতো মিলিয়ন বৎসর পূর্বে এই সরীসৃপ সারা পৃথিবী দাপিয়ে বেরিয়েছে। মানুষ তখন কোথায় ? হয়তো ভগবান মানুষের তখনো কল্পনা ও করেননি। কিন্তু আজ এই বিশালকায় প্রাণী ধরণী থেকে সমূলে নিশ্চিহ্ন।  মানুষ কী এই ছোট কথাটা মনে রেখেছে ?

আজ মানুষ তাঁর  কৃতিত্বের গর্বে , বুদ্ধির ঐশ্বর্যে , শারীরিক ও মানসিক বলের দম্ভে ধরা কে সরা জ্ঞান করছে - যুদ্ধ বাঁধিয়ে সোল্লাসে নাচছে , একে  অন্যকে পায়ের নিচে কুচলে ফেলে আনন্দে লাফাচ্ছে একে  অন্যের সমূহ ক্ষতি করে স্বাভিমানে ফেঁটে  পড়ছে।  এরা  কী ডাইনোসরের কাহিনী ভুলে গেছে না মনে রাখা প্রয়োজন মনে করে না ?





Monday, March 19, 2018

রাতের ডায়েরী


অনেক দিন পর লিখতে বসলাম। এখন রাত সাড়ে নটা।সাধারনতঃ, এই সময় খেয়ে-দেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি বা শুয়ে শুয়ে মোবাইলে নেটফ্লিক্সে একটা আধটা সিনেমা দেখি। আগে বই পড়তে-পড়তে ঘুমোতাম। এখন বই পড়াটা সিনেমা দেখা দিয়ে রিপ্লেস হয়ে গেছে। কিন্তু মনের  কোনো একটা খাঁজে খুসখুসানি লেগে থাকে। এই যে কি করছি...বই না পড়ে সিনেমা দেখছি। এটা একটা অহেতুক ব্যামো। জামানা পালটে গেছে। এখন পড়ার চাইতে দেখার ঝোঁক বেশী। এই সামান্য ব্যাপারটা মেনে নিতে পারলেই হল কিন্তু তা হবার যো নেই। মনের অবান্তর কিছু ন্যাকামো আছে। আর সেই ন্যাকামোগুলোতে কান দেওয়ার বিশ্রী অভ্যাসকে কী বলবেন?

***

অনেক দিন খবর কাগজ পড়াই হয় না। এটা আরেকটা আফসোস। সামনের ঘরের টেবিলের উপর কাগজগুলো স্তুপাক্রীত হচ্ছে। রোজ অফিস ফেরত কাগজের পাহাড় দেখি আর ভাবি আজ সব পড়ে ফেলব। আর পড়া...খাওয়া হয়ে গেলেই হয় ঘুম নয় মোবাইল...এ এক অন্য ধরণের আসক্তি।আফসোস করে লাভ নেই।

***

গত শুক্রবার ব্লকের সামনে গ্যাংগওয়ার হয়ে গেল।টুল্লু গ্যাং আর গিল্লু গ্যাং। বাইকে করে মাঝ দিনে এক গ্যাঙ্গের দুটি ছেলে শত্রু গ্যাঙ্গের দুটি ছেলে কে গুলি করে মারল। প্রথমটি স্পট ডেড দ্বিতীয় ছেলেটা পালিয়ে বাঁচল। আমরা জাতে উঠলাম।আজ অবধি যা অনুরাগ কশ্যপের ‘গ্যাং অফ ওয়াসেপুরে’ দেখেছিলাম তা বাড়ীর সামনে ঘটে গেল। শুধু ফারাক এই যে গুলি ছোঁড়াছুঁড়িতে পান বিক্রি করত যে তেইশ বছরের ইনোসেন্ট ছেলেটা প্রাণ হারালো। রোমাঞ্চিত হওয়ার কারণ বটে।

***

অঙ্কে মিলছে না অনেক কিছুই। জীবনের অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছি না। একটা ছকে জীবনটাকে ফেলার চেষ্টা মাঠে মারা গেল। “কিছুই তো হল না সেই সব...সেই সব...”।

Sunday, March 26, 2017

“সহজ পাঠ”



আমার বাংলা শেখা গল্পের বই পড়ে। ব্যাকরণ সম্বন্ধে আমার জ্ঞ্যান সীমিত। তবু ও বাংলায় লিখে যে সুখ তা ইংরাজি বা হিন্দিতে লিখে পাই না। না একটু ভুল বললাম। তিনটি ভাষার তিন রকম উপলব্ধি।


ছোটোবেলা থেকে বাংলা ও ইংরেজিতে অনবদ্দ্য ভাবে নানা রকমের বই পড়েছি – উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা, বিবিধ সাহিত্যিকের রচনাবলি আর সিলেবাসে যে সব পাঠ্যপুস্তক ছিল তাতো বটেই। হিন্দিতে পাঠ্য পুস্তক ছাড়া বিশেষ কিছু পড়া হয়নি। তবে হিন্দি গান শুনে-শুনে ভাষার সূক্ষ্ম আবেদনগুলি বোঝার চেষ্টা করেছি। হ্যাঁ! সত্যিই! গান ও যে সাহিত্যের একটা নিবিড় অঙ্গ সেটা আমরা প্রায়সই ভুলে যাই।


এখন অবশ্য আমার ব্লগার বন্ধু শ্রী জে মাথুরের লেখা হিন্দি পাল্প ফিকশনের অনেক রিভিউ পড়ে হিন্দি গল্পের বই পড়ার মনে ইচ্ছে জেগেছে। তবে যে কোনো ভাষা ‘ফীল’ না করতে পারলে সেই ভাষায় বই পড়ার আনন্দ নব্বুই শতাংশ কমে যায়।তাই ইচ্ছে করলে ও পড়ে কত খানি আনন্দ লাভ করব সেটা অনুমান সাপেক্ষ।


তবে তিনটে ভাষাতেই লেখালেখি করে দেখেছি নিজের মাতৃ ভাষায় লেখা সব চেয়ে স্বাছন্দে হয়।আসলে যেহেতু ভাবি বাংলায় তাই লিখতে গিয়ে ভাবার ভাষা অনুবাদ করতে হোঁচট খেতে হয় না যটা হয় ইংরেজি আর হিন্দিতে লিখতে।


তাই প্রাণের ভাষা মনের ভাষার আমাদের বাংলা ভাষা।



ঠীক কী না?          

Thursday, October 01, 2015

উফ্!!!




উফ্!!!




উফ্!!!
 
এই শব্দটা ভোলার যো নেই…বিশেষ করে আজকাল কার যুগে যেখানে  অসহিষ্ণুতা মানুষের জীবনধারায় অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত …।
 
ভোর চারটা …
 
এ্যালার্ম ঘড়ীটা বিচ্ছিরী ভাবে কঁকিয়ে উঠল...
হাথ বাড়িয়ে বন্ধ করতে করতে আরো কয়েক সেকেন্ড...ততক্ষণে কোঁকানোটা মরা কান্নার পর্যায় পৌঁছিয়েচে...
 
ঠান্ডা মাথায় খূন করি ......... না মানুষ নয় ... এ্যালার্ম ঘড়ীটার... সোজা......... গলা টিপে।
 
পাশ ফিরে শুই ... আর কিছুক্ষণ আলসেমির আনন্দ নিই আর কী।
 
ঘড়ীর কাঁটা থামে না কিন্তু ... টিক্... টিক্... টিক্... টিক্... টিক্... টিক্
 
তাতে কী? ভুলে যাই সময় কাল পাত্র এক নিমেষে... তারপর ............খেই হারানো নৌকার মতন উথাল পাথাল সমুদ্রের পাড়ি...
 
চোখ খুলতেই চরক্ গাছ ... উফ্ দেরি হয়ে গেছে ... ভীষণ...!!!
 
দৌড়ে লাগুর পাই না... (এমারজেন্সিত মাটির ভাষাটা বড়ই মিঠে, সহজ, প্রাণের ভাষা লাগে...!!)
বাথরুমের দর্শন ....ঢোকা আর বেরোনো আর কি!!
 
হোঁচোট খেলাম... আউচ!!!
 
তারপর রান্নাঘর............মাঝে মাঝে আজীবন কারাবাসের মতন লাগে।। কিন্তু হিন্দীতে ওই যে বলে “পাপী পেট কা সওয়াল হ্যায় বচ্চা” ওই আর কি!!
 
চাটা বেশী কড়া হয়ে গেল... উফ্!
ডালটায় নূন এক চামুচের জায়গায় দুই চামুচ পড়ে গেল...  উফ্!
উচ্ছের তরকারি কড়াইয়ে লেগে গেল... উফ্!
দুধ উথলে ফ্লোর ভাসালো ... উফ্!
কাজের লোক আছে...কিন্তু আজ না বলে ছুটি করে ফেলল না বেল বাজিয়ে উত্তর না পেয়ে চলে গেছে বুঝতে পারলাম না... উফ্!
 
গীজারটা হঠাৎই ‘মিস-বিহেভ’ করল... উফ্!
নভেম্বর মাস...ঠান্ডা জলে চান করলে একটু শিরশিরে ভাব জাগে...আলতো উষ্ণ হলে ভালো হয়............হলোনা, উফ্!
 
তৈরি হতে গিয়ে আবার গড়বড়  ...
তাড়াহুড়োয় কিছু একটা গলিয়ে চলে যাব ভেবেছিলাম ......প্রেস করা নেই......... উফ্!
উফ্!
প্রেস করতে আরো এক পশলা দেরি ......... উফ্!
 
অগত্যা কোনো রকমে বাড়ীর বার...যাত্রা বিভ্রাট... সে তো লেগেই আছে । দিন ক্ষণ দেখে আসে না...
 
অটো পেতে দেরি......
দেরি বলে রাস্তায় যানজট...
অফিসে তাই পৌঁছতে দেরি...
দেরিতে পৌঁছে কাজ শেষ করতে দেরি...
কাজ শেষ করতে দেরি দেখে বসের দাঁত খিঁচুনি...
দাঁত খিঁচুনি শুনে মুড অফ্...
মুড অফ্ মানে বাকি  দিনটার বারোটা পাঁচ...
 
উফ্! উফ্! উফ্! উফ্! উফ্! উফ্! উফ্!
 
আর বাড়ী ফিরে...............
 
যাক্ সে কথা নাই বা পারলাম
মোদ্দা কোথায় আসি
 
মশাই,  তাই জন্যই তো শুরুতেই বলেছি ‘উফ্’ এর সঙ্গে ‘দোস্তি’ আমাদের জীবনের, না, জীবনযাপনের (লাইফস্টাইলের) এক বিশাল পাওয়া। এই পাওয়াকে আমরা মেনে নিয়েছি না মেনে নিতে পারছি না, সেটাই  ‘থ্রেডবেয়ার’ (সুতোছেঁড়া???) বিশ্লেষণের বিষয়বস্তু...
 
জানতে ইচ্ছা রইল আপনারা এই ব্যাপারে কী বক্তব্য রাখেন...
 


Saturday, February 07, 2015

চান্দ মামার টি আর সুয্যি জ্যাঠার ডী


একান্নবর্তী পরিবার। মা হেঁসেল ঠেলতে সদাই ব্যস্ত। ছোটোবেলায় তাই আমু (ঠাম্মা) পিসীদের কাছেই মানুষ। ম’নে পড়ে আমু সুর করে ছড়া কেটে পীঠে আলতো করে থপথপিয়ে ঘুম পারাতেন...“আয় আয় চাঁদ মামা মিষ্টি মেয়ের কপালে টি দিয়ে যা...” আর বড় পিসী বলতেন রসিয়ে-রসিয়ে গল্প – রামায়ণ, মহাভারত আরো কত কী। গ্রীষ্মের দুপুরে হ’ক বা শীতের রাত্রে – ছড়া আর গল্পের মহড়া অবিরাম চলত। তার আর থামতি নেই। আমার বোধহয় গল্প শোনা ও বলার নেশা সেখান থেকেই শুরু।

 

বড় হওয়ার অনেক জ্বালা। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় জ্বালা ছোটোবেলার সেই সরল, নিষ্পাপ দিনগুলো হারানোর। জীবনের পাঁচ দশক পেরিয়ে এখন চাঁদ মামার শীতল স্নেহের চাইতে সুয্যি মামার তপ্ত হাতের পরশের বেশী পরিমাণ প্রয়োজন। ঠীকই ধরেছেন। বয়সের প্রকোপ শরীরের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে বেশ বোঝা যাচ্ছে। হাঁটুর ব্যাথা, সার্ভাইক্যাল, গোড়ালিতে হাড় বেড়ে যাওয়া - সবই এই পৄথিবীর ভার বাড়ানোর সাজা আর কী?

 

ডাক্তারবাবু গম্ভীর মুখে বলেন, “দেহে তো একবারে কিছু নেই। ভিটামিন ডীর বিশেষ দরকার। সকালে উঠে সূর্য প্রণাম শুরু কর”। আমি আঁতকে বলি, “সকালে যে অনেক কাজ। তার উপর আবার সূর্য দেবতার জন্য আলাদা সময় বার করা যে বড়ই মুশকিল। ডাক্তার আরো বিরক্ত মুখ করে ক’ন, “তা না হলে ভোগো”।

 

কাঁচুমাচু মুখ করে ভাবি, “গেল যা। আবার এক নতুন বিপদ। সকালে উঠে সূর্য দেবতার আরাধনা কর”। ভাবি আমু থাকলে ছড়ার কথাগুলো একটু পালটে নিয়ে হয়ত বলতেন, “তোর আর হক্কাল হক্কাল পার্কে গিয়া কাম নাই। আমি তেনারে তুষ্ট করার পন্থা জানি”। আর তারপরই বোধহয় সুর কেটে ছড়া গাইতেন,” আয়, আয় সুয্যি জ্যাঠা মিষ্টি মেয়ের হাড়গুলায় ভিটামিন ডী দিয়ে যা”।

Sunday, August 31, 2014

বন্ধ্যা


পাঁচ-ছ বছর আগে আমার মালী রামখেলাওয়ন চারাটা পুঁতে বলেছিল, “দিদি দেখবেন, এক বছরের মধ্যেই চর-চর করে বেড়ে গাছটা ফুলে-ফুলে ভরে যাবে। গন্ধে বাতাস মো-মো করবে”। আশায়-আশায় পাঁচ বছরের বেশী হয়ে গেল। চারাটা বেড়েছে বটে, পাতার বোঝায়  নুয়েও পড়েছে। রবি, তার বাবার লাগানো গাছটাকে বারবার ছেঁটেছে আর আশ্বাস দিয়েছে ফুল আসবে, সুগন্ধে মাতিয়ে দেবে বাগান। আমিও অপেক্ষায় দিন গুনি। কিন্তু দুদিন আগে আগাছার  মত বেড়ে ওঠা পাতার গোছা কাটতে-কাটতে রবি গজ-গজ করে আপন মনে, “ এ দেশী, বুনো গাছ । বাবা কী ভেবে যে লাগালো। এতে ফুল আসা মুশকিল”।

 

না, কিন্তু ফুল এসেছিল। ফিকে, হলদে রঙের। কেমন যেন শুকনো, শুকনো আর গন্ধ ও তেমন নয়। তবে বৎসরান্তে ফুলহীন ডালির আফসোসের চেয়ে মুরছানো ফুলের গুচ্ছর আনন্দ বা কম কীসের ? তাই দুদিনের সেই অতিথিকেও হাঁসি মুখে অভ্যর্থনা জানাই।

 

রবি এ যুগের ছেলে। অধৈর্য স্বরে বলে, “ এ গাছ উপড়ে নতুন লাগাবো। বিদেশী ... একটু দাম বটে। আহা ! তবে তাতে কী গোছা-গোছা ফুল ধরে । আর কী গন্ধ। প্রাণ ভরে যায়”।

 

মনে পড়ে সোনা বৌদির কথা। আমাদের পাশের বাড়ীতে থাকতেন। কেমন যেন লতায়-পাতায় আত্মীয়তা ছিল আমাদের পরিবারের সঙ্গে। বৌদি সন্তানহীনা। রাঙ্গাদা, সোনা বৌদির স্বামী, শান্তিপ্রিয়, মিতবাক মানুষ। খানিকটা ভালেষহীন ও বটে। সোনা বৌদির শ্বাশুড়ীমা ডাকসাইটে মহিলা। বৌদিকে ছেড়ে কথা বলতে পিছপা হতেন না। কারণ একটাই । বৌদি রাঙ্গাদাকে বাবা ব’লে ডাকার একটি ছোট্ট মাণিক উপহার দিতে অপারগ। বংশের কুল-প্রদীপ না  থাকা মানে বংশ লোপ পাওয়া এবং এর জন্য বৌদিই যে দায়ী এই কথাটা সোনা বৌদিকে অহর্নিশি মনে করিয়ে দিতেন বাড়ির বড়রা আর বিশেষ করে রাঙ্গাদার মা। বৌদির সঙ্গে রাঙ্গাদার সম্পর্কেও কোথায় যেন এ নিয়ে চির বেঁধেছিল যদিও ওঁদের মধ্যে এ নিয়ে  কোনও বাদবিবাদ বা মোনমালিন্যের ঘটনা আমরা শুনিনি বা দেখিনি। সবটাই ছিল একটা নিরব অভিমান আর ক্ষোভের আড়ালে । কিন্তু এই নিরবতাই গভীরে আঘাত হানে মানুষের মনে ও জীবনে। মাঝে বেশ কিছুবার প্রিমেচিওর এ্যাবর্শনের দুর্ঘটনা বৌদির বৈবাহিক জীবন দুরুহ করে ও তুলেছে।

 

বিবাহের পনেরো বছর বাদে বৌদি হন শেষ সন্তান সম্ভবা। কিন্তু ডাক্তার মিত্র, বৌদির গাইনি, এই প্রেগ্নেনসির পক্ষে ছিলেন না। বাচ্চা অথবা মা, দুজনের মধ্যে এক জন কে বেছে নিতে বললেন রাঙ্গাদাকে। রাঙ্গাদাকে নিশ্চুপ দেখে বৌদিই জেদ করলেন। তাঁর বাচ্চা চাইই। বাকীটা ভবিতব্য। অনিকে জন্ম দেওয়ার কিছু ঘন্টার মধ্যেই বৌদি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। অনেকটা জেনেশুনে প্রাণের মায়া না করে স্বামীকে দিয়ে গেলেন তাঁর শেষ উপহার। মারা যাওয়ার কিছু মাস আগে বৌদিকে একবার বলতে শুনেছিলাম, “স্বামী হারানোর চাইতে প্রাণ হারানো অনেক সোয়াস্তির রে ভাই!”

 

আজ এত বছর পরে রবির কথা শুনে আমি বাধা দিই। না, থাক গাছটা যেমনটি আছে তেমন এক কোনে। কী বা যায় আসে ? আর হয়তো এমন ও তো হতে পারে ফুলে-ফুলে ভরে উঠবে ওই শুকনো ডালগুলি কোনো একদিন।   

 

সেই দিনের অপেক্ষায় থাকি। আর ঢালি খাদ আর জল নিয়মিত। ফুল দিতে গিয়ে প্রাণ না হারায় সাধের গাছটা আমার।  ঠীক     আমাদের সোনা বৌদির মতন…!!!!