আমি মনে প্রাণে বাঙ্গালী, তায় আবার ভেতো বাঙ্গালী। অজস্র
উদাহরণ দিতে পারি এই অকাট্য সত্যিকে যুক্তিগত ভাবে প্রমাণিত করতে কিন্তু তর্কের ঘোরপ্যাঁচে
পড়ে ব্লগের বারোটা বাজাতে চাই না। তাই শুধু বলি “ভালবাসি, ভালবাসি” এই বাংলা ভাষার
অমুল্য সম্পদ, সংস্কৃতি ও সৃজনীকে।
হ্যাঁ! প্রবাসী হয়ে ও বাংলার সাহিত্যিক ঐতিহ্য
ভুলিনি। বাংলা গল্পের বই পড়ে বড় হয়েছি এবং ভাষা জ্ঞান ও সাহিত্য প্রেম দুই ই
জেগেছে। অতয়েব, বাংলায় ব্লগ লেখার ইচ্ছা, দেরিতে হলে ও, মোটেও হুজুগে ব্যাপার নয়। প্রযুক্তিগত স্বাচ্ছ্যন্দ ও সুযোগের দরুণ একটা অনেক
দিনের অপূর্ণ বাসনা ইলেক্ট্রনিক পর্দায় স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে মূর্ত হল।
তবে বাংলায় লিখতে গিয়ে দু দশকের ও অধিক সময়ের অনভ্যাস
ধরা পড়ে গেল। বাংলা হাথের লেখা কোনোকালেই মুক্তোর মতন ছিল না। এখন তো কাগের ঠ্যাং
বগের ঠ্যাং ও যে কোনো হাথের লেখা প্রতিযোগীতায় আমার অক্ষর-সাধনাকে কাঁচকলা দেখিয়ে
মেডেল নিয়ে যায় আর কী!
ভাষার দুর্বলতাও কম নয়। যথার্থ শব্দ চয়নে হোঁচট খেয়ে
যাই বারবার। অভিব্যক্তি ও সাবেকী। আমার সাথী ব্লগার, সবুজ, আমায় আধুনিক বাংলা
পত্র-পত্রিকা পড়ার রায় দিয়েছেন। কথাটা ঠীক! সমকালীন বাংলা চর্চা কী পর্যায়ের তা অবিশ্যি
জানা দরকার।
শতেক সীমাবদ্ধতা সত্তেও বাংলায় লিখছি এটাই আমার বাঙ্গালীয়ানার পরিচয়। আশা রাখি লিখতে লিখতে প্রতিবন্ধকতাগুলি পেরিয়ে উঠতে পারব। আর আপনারা যারা আমার লেখা পড়েন নির্দ্বিধায় হাথটি ধরে পথ দেখিয়ে দেবেন। কেমন?