Showing posts with label হাস্য কৌতুক. Show all posts
Showing posts with label হাস্য কৌতুক. Show all posts

Friday, March 10, 2023

ট্যারো





এই ছোটো গল্পটি স্টোরি মিরর ডট কমে ও  পাঠক পাঠিকারা পড়তে পারেন 


রিটায়ার করার আগে থেকেই মাথায় অনেক রকম খেয়াল পাকনা মেরে উড়ছিল।  খেয়াল মানে যাকে ইংরেজিতে বলে ফ্যান্সিফুল থটস।  কী করে সময় কাটানো যায়।  অফিসের কলিগ ও বন্ধুরা নানান আইডিয়া চাপালো -

"তোর তো লেখার খুব শখ।  বই-টই   ছাপিয়ে ফ্যাল " - যেন কত সোজা। 

"আমাদের দেশে কত কিছু আছে দ্যাখার - ঘুরতে যা " - মাগো! আমি চিরকালের ঘরকুনো আমাকে ঘুরতে যেতে বলে ?

"বই পড় " - পড়ি ..আর কত পড়বো !

"কিছু শেখ " - যেমন ?

"কোনো এন  জি ও  জয়েন কর" - ঠিকানা দে .. চুপ। 


শেষমেষ  ট্যারোতে আটকালাম।  বাবাকে জ্যোতিষ শাস্ত্র  চর্চা করতে দেখেছি।  আমাদের বাড়িতে  এস্ট্রোলজিক্যাল ম্যাগাজিন প্রতি মাসে আসত । বাবা  পড়তেন।  সেকালের জ্যোতিষী মানে একখানা চটি বই যার মধ্যে লগারিদমের  মতন কী সব ছাই ভস্ম নাম্বারের মতন লেখা তা  দেখে পাতার পর পাতা অংক  কষা -  অক্ষাংশ .. দ্রাঘিমাংশ ..জন্ম তারিখ ..ক্ষণ.. জন্মকালে গ্রহের অবস্থান .. জন্ম স্থান.. আরও কত কি ।  তারপর গম্ভীর মুখে কোন গ্রহ কোথায় বর্তমানে অবস্থিত তা নিয়ে বুঝিয়েদের সঙ্গে আলোচনা করা। যার ঠিকুজি তাকে বেশ কিছু দিন অপেক্ষা করতে হতো ভবিষ্যৎ জানার জন্য।  

আমার অংকেতে মাথা নেই. কিন্তু জ্যোতিষীতে ইন্টারেস্ট আছে. তাই ট্যারো বেছে নিলাম।  তাস  দেখে ভুত-ভবিষ্যৎ বিচার করা।  সোজা। ট্যারোর মজা হলো যে যার ভবিষ্যৎ বিচার হবে সে  একটি তাস আটাত্তরটি  তাসের বান্ডিল থেকে বেছে নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই বুঝে নেবে।  আমাকে শুধু তাসের মানেটা তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে। 

অনেক বই ঘাটাঘাটি করলাম।  ইউ টিউব দেখলাম। তাস গুলোর ইতিহাস পড়লাম   কেমন ভাবে তাদের সাজাতে হয় ইত্যাদি।  বলা হয়নি - আমি কখনই ব্যাপারটা প্রচার করিনি।  এটা শুধুই হবি।  পয়সা রোজগারের ধান্দা  নয়।  

তবুও জানিনা কী করে জানাজানি হয়ে গেলো।  

টের পেলাম  সকাল এগারোটা নাগাদ পাড়ার এক অবাঙালী  ভদ্রলোক যেদিন এসে হাজির হলেন।

"আপনি ভবিষ্যৎ বলেন?"

"কই না তো ?"

"এই যে  অ বাবু বললেন ?"

আমি ফাঁপরে পড়লাম। 

অ বাবু আমার বাবার বয়সী এবং অতি ঘনিষ্ঠ ভাবে পরিচিত।  তাঁকে মিথ্যেবাদী প্রমাণ  করা আমার পক্ষে অপরাধ জনক।  তাই  বললাম ,

"ওই একটু আধটু আর কি - তাস দেখে ... হবি এই মাত্র। "

"তাস দেখে ?"

ভদ্রলোকের চোখে মুখে অবিশ্বাস্যের পোলোর 

"হ্যাঁ - ট্যারো ?"

"কী  রো ?"

"যাকগে ... আপনার কী কোনো সমস্যা আছে ?"

"তা আছে বৈকি।  কিন্তু আমি সেটা বলবো না।  সেটা আপনি আমাকে বলবেন। "

বুঝলাম ভদ্রলোক আমার পরীক্ষা নিচ্ছেন। 

আমি তাসের বান্ডিলটি বার করে সাজালাম এবং তার মধ্যে একটা যে কোনো তাস ওনাকে বেছে  নিতে বললাম। 

উনি একটি তাস বেছে আমাকে দেখাতে আমি একটি লম্বা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললাম , "আপকে জান কো  খতরা  হ্যায়। "

"ক্যা হ্যায় ?"

আমি রিপীট করলাম , "খ ত রা "

ভদ্রলোক আমার কথা শুনে তাচ্ছিল্যের হাঁসি হেঁসে বললেন, "ও সব বুঝিনা।  আমার এই পাড়ায় একটি ফ্ল্যাট আছে যেটা একটি পরিবার অকুপাই করে রেখেছে।  কিছুতেই খালি করছে না।  আমায় উপায় বাতাও ফ্ল্যাট খালি করার।" 

বড় মুশকিলে পড়লাম।  আমার বিদ্যা অতদূর অবধি নয় যে আমি উপায় বাতলাতে পারি।  তবুও অনেক মাথা চুলকে  উত্তর দিলাম যে পরিবারটির বড়  যিনি তাঁর  সঙ্গে বসে আলোচনা করে দেখুন।  ভদ্রলোকের আমার সমাধান মোটেই পছন্দসই  হলো না।  একটা শ্লেষযুক্ত হু: বলে উনি উঠে বেরিয়ে চলে গেলেন।

এর কিছুদিন পর সকালে কলিং বেল বেজে উঠলো। 

দরজা খুলে দেখি একটি নিরীহ গোছের লোক খুবই বিমর্ষ মুখে দাড়াঁনো। 

জিজ্ঞাসা করাতে জানালেন যে তিনি অমুক নম্বর ফ্ল্যাটের বাসিন্দা।  ওনার বাড়িওয়ালা ফ্ল্যাট খালি করার জন্য ওনাকে উত্ত্যক্ত করে মারছেন। উনি অনেক বুঝিয়েছেন যে ওনার মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে।  বিয়ে হয়ে গেলেই ফ্ল্যাট খালি করে গ্রামে ফিরে  যাবেন। ভদ্রলোক রিটায়ার্ড।  একটিমাত্র মেয়ে।  এখন বিয়ের এতো খরচের মাঝে যদি বাড়ি খুঁজতে হয় তাহলে তো উনি বড় বিপদে পড়বেন। বাড়ি বদলানো মানেই ভাড়া বাড়া।  শিরে সংক্রান্তি।  তাই উনি বাড়িওয়ালাকে অনেক অনুনয় বিনয় করেছেন বাড়ি ছাড়ার জন্য এখন ওনাকে প্রেশার না দিতে। কিন্তু সে নাছোড়বান্দা।  রোজই  এসে হাজির হচ্ছে। ধমকাচ্ছে।  গালি গালাজ করছে। উনি অনন্যোপায় হয়ে আমার কাছে এসেছেন। ওঁকেও অ বাবুই নাকি  আমার কথা বলেছে।  

মনে মনে অ বাবুর উপর রাগ ধরলেও কিছু না বলে ওনাকে ঘরে এনে বসালাম।তাসের বান্ডিল সাজিয়ে একটি তাস বেছে আমাকে দেখাতে বললাম।  উনি তাই করলেন। গোবেচারা মানুষটির উপর মায়া হচ্ছিল।  মিডল ক্লাস  অর্থাৎ মধ্যবর্তী  বর্গ  সব সময়ই অশান্তিতে  ভোগে।  ভদ্রলোকের উসকো খুসকো  চুল মাথার মাঝখানের টাকটিকে ঢাকার ব্যার্থ চেষ্টা করে হেরে গেছে।  লোকটির মুখায়ব ফ্যাকাসে।  এনেমিক মনে হলো।  আহা! না খেয়ে বা আধ পেটা খেয়ে  হয়তো মেয়ের বিয়ের জন্য টাকা জমিয়েছেন সারা জীবন ভর।  তার উপর বাড়িওয়ালার উৎপীরণ।  

তাসটি বার করে উনি আমার হাতে দিতে আমি মনোযোগ সহকারে অনেকক্ষণ সেটিকে নিরীক্ষণ পরীক্ষণ করে বললাম, 

"চিন্তা করবেন না।  আপনি যেখানে আছেন সেখানেই থাকবেন যত দিন আপানার মন চায়।"

আমার কথা শুনে ভদ্রলোক যেন হাতে স্বর্গ পেলেন। আমায় হৃদয়ের অন্তঃকরণ থেকে ধন্যবাদ জানালেন। মনে হলো আমার কথা শুনে ওনার হলদেটে চেহারায় লালচে রং খেলে গেলো। নাকি আমারি চোখের ভুল। 

এর কিছুদিন পর  আমার কাজের মেয়েটি এসে জানালো পাড়ায় আজ নাকি দারুন গোল বেঁধেছিল ।  অমুক নম্বর ফ্ল্যাটের  ভাড়াটে তার বাড়িওয়ালাকে বেদম প্রহার করেছে। আমি জিজ্ঞসালাম, "কেন ?" 

জোনাকি রসিয়ে রসিয়ে জানালো বাড়িওয়ালা কয়েক জন গুন্ডা সঙ্গে করে এনে ভাড়াটে ভদ্রলোকের বাড়িতে হানা দিয়ে তাঁর জিনিসপত্র রাস্তায় ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলো। ভাড়াটে ভদ্রলোকের কোনো কথাই তারা শুনতে রাজি ছিল না।  এরমধ্যে একজন গুন্ডা নাকি তাঁর মেয়ের হাত ধরে ঘর থেকে টেনে বার করার চেষ্টা করাতে ভদ্রলোক মরিয়া হয়ে হাতের কাছে যা পান তা দিয়ে লোকটিকে  আঘাত  করেন। লোকটা গুন্ডা হলেও পাল্টা মার বোধহয় আশা  করেনি। টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যায়।  তাই দেখে ভাড়াটে ভদ্রলোকের সাহস আরেকটু বেড়ে যায় এবং তারপর উনিও লেগে যান মারামারি করতে। শেষমেষ পাড়ার লোকেরা মধ্যস্থতা করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু ততক্ষনে ভাড়াটে ভদ্রলোকটি বাড়িওয়ালার মাথায় জোরে একটা পাথর মেরে ফাটিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন । রক্তারক্তি কারবার।  পুলিশ আসার উপক্রম হয়েছিল কিন্তু তার আগেই বাড়িওয়ালা ভাড়াটের  কাছে হাত জোর করে মাপ চেয়ে তাকে বাড়িতে যতদিন ইচ্ছে থাকার অনুমতি দিয়ে দেন।  জোনাকির পাবলিক রিলেশান ভালো। পাড়ার সব রকম কেচ্ছা কেলেঙ্কারির গল্প চাটনি সহযোগে আমার কাছে পৌঁছে যায়। 


এর দু তিন দিন পর 

অ বাবু হন্তদন্ত হয়ে হাজির ,

"শুনলাম নাকি তোমার কাছে অমূক  আর অমূক  বাবু দুজনেই এসেছিলেন ভাগ্য গণনার জন্য"।

মনে মনে বললাম আপনার দৌলতে। 

"আর তুমি নাকি দুজনেরই একেবারে সঠিক  বিচার করেছ ".

আমি আমতা আমতা করে "ওই আর কি "... বলাতে অমুক বাবু বললেন ,

"আঃ ! আর ভণিতা করতে হবে না।  তুমি তো বাড়িওয়ালাকে বলেইছিলে ওঁর প্রাণ নিয়ে টানাটানি আছে আর ভাড়াটেকে বলেছিলে ও যেখানে আছে সেখানেই থাকবে।  তাইতো ?"

আমি মাথা চুলকে বললাম , " ওই নিরীহ, শান্তিপ্রিয় মানুষটিকে দেখে বড়ো মায়া লাগছিলো  তাই আর কি সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য ওই কথাটা বলেছিলাম।  সেটা যে অক্ষরে  অক্ষরে  মিলে  যাবে তা কী  করে  জানবো"?

"সে যাই হোক।  এখন একটা সাইন বোর্ডের ব্যবস্থা করতে হবে।  তোমার পসার এক্কেবারে কনফার্মড"। "

আমি কিছু বলার আগেই অ বাবু সোৎসাহে হনহন করে বেরিয়ে গেলেন। উনি বয়োঃজ্যেষ্ট এবং আমার সেলফ প্রোক্লেমড  গার্জিয়ান। ওনাকে না করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।  তবুও ..

বলা হয়নি এই ট্যারো কার্ডের বান্ডিলটি ওঁর মেয়ে সুমিতারই দেওয়া।  শখ করে কিনেছিল কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই শখ ঘুঁচে গিয়ে আমাকে দিয়ে বলেছিল , "দিদি এ আমার দ্বারা হবে না।  তোমার ইন্টারেস্ট আছে ; তুমি নিয়ে দ্যাখো "। 

এখন ভাবছি ওঁকে বান্ডিলটা ফেরত দিয়ে দেবা। 

সাইনবোর্ড লাগার আগে। 

এই ট্যারো ফ্যারো আমাকে ও পোষাবে না।



Friday, May 13, 2022

লাছুরি

 

আমার জীবনে কিছু দুক্কু  বরফের ড্যালার মতো জমা পড়ে আছে।  আজ সেগুলির একটা লিস্টি তৈরী করব ঠিক করেছি :

দুক্কু নম্বর ১

এটা আমার ছোটবেলার  দুক্কু 

আমাকে কেউ গান গাইতে বললে আমার স্মৃতি শক্তি ও গলার আওয়াজ দুই ই  লোপ পায়।  "কী গাব আমি কী শোনাবো ..." ছাড়া আর কোনো গান আমার মনে পড়ে না।  অথচ আমার চিরকালের স্বপ্ন  আর ডি বর্মন 'আমাগো  বাসার' সামনের রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে হারমোনিয়ামে আমার  সা - রে - গা - মা - পা - ধা - নি - সা রেওয়াজ শুনে বাড়ীর কলিং বেল বাজিয়ে আমায় কোলে তুলে নিয়ে একেবারে বোম্বে পাড়ি দেবে। কিন্তু  হলো না ..

দুক্কু নম্বর ২

ইটা আমার মেয়েবেলার  দুক্কু 

কত মেয়েরা কী সুন্দর ভাবে টান -টান করে মডেলের মতন শাড়ি পড়ে , মেক আপ করে , মিষ্টি দেখায়  ...আমি শত চেষ্টা করেও পারি নিকো।  ঠোঁটে লিপিস্টিক মাখলে কালো কালো ছোপ পড়ে।  চোখে কাজল আঁকলে চোখের তলায়  কালি  আরো প্রবল গাঢ় দেখায়। ফাউন্ডেশনের গন্ধ আমার সহ্য হয় না  - মাথা ধরে...গা ঘিন ঘিন করে   তাই এই দুক্কুটাও রয়ে গেলো গো  ...

দুক্কু নম্বর ৩

এটা আমার ধিরে ধিরে গড়ে ওঠা দুক্কু 

ছোটবেলায় আমি ভীষণ  লাজুক ছিলাম।  কেউ কোনো বাজে কথা বললেও তার উত্তর দিতে পারতাম না  - খুব খারাপ লাগতো।  দিনের পর দিন সেই বিষ মাখা কথাগুলো মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেত।   আর আমি উত্তর না দিতে পেরে মনে মনে গুমরাতাম।  তারপর উত্তর দিতে শিখলাম, রাগ করতে শিখলাম, রাগ দেখাতে শিখলাম এবং শেষ-মেষ রাগে ফেটে পড়তে শিখলাম।  ক্রোধ শনি  ... কে না জানে?  রাগের চোটে  মাঝে মধ্যেই   মাথা দপদপাতে শুরু করতে লাগলো . তখন রাগ কমাবার পন্থা গুলো অবলম্বন করতে শুরু করলাম।  পুরোপুরি ক্রোধ সম্বরণ করতে না পারলেও ভিসুভিয়াস হই  না আর বা হতে হতে থেমে  যাই. কিন্তু আমার দুক্কু হলো কিছু কিছু লোক দেখি কী সুন্দর রাগ চেপে রেখে মিষ্টি মিষ্টি করে  পিচিয়ে পিচিয়ে কথা শোনাতে  পারে তারপর কী অমোঘ কৌশলে ঝোপ বুঝে কোপটি মারে। আমি কেন তা পারিনা ? একদম পারিনা।

দুক্কু নম্বর ৪

 এটা আমার মানে এক্কেবারে এক্সেপশনাল  দুক্কু 

আমি অহেতুক এবং অনিয়ন্ত্রিত অন্তরঙ্গতা বা ভাবপ্রবণতা হ্যান্ডেল  করতে পারি না।  টু মাচ ইমোশন একেবারে নো নো।  মানে ওই ভাবের ফানুশ হয়ে গলে গলে  - ও:! এটা আমার দু:খ না অক্ষমতা ঠিক বলা কঠিন। মানে আমাকে যদি কেউ প্রেম নিবেদন করে - ভাগ্যিস কোনোদিন কেউ করে নি - আমার যে কী  প্রতিক্রিয়া হবে বা হতো  বলা মুস্কিল। একবার এক পাড়ার ছেলে  রাস্তায় আমাকে ,"আপনাকে অনেক কথা বলার আছে কিন্তু কেমন করে বলি বুঝতে পারছি না। .."  বলাতে আমি " তাহলে আর বলে কাজ নেই " বলে হনহনিয়ে চলে গেছিলাম।

দুক্কু নম্বর ৫

এটা আমার বড়বেলার দুক্কু 

আমি অনেক লেটে  গাড়ী চালাতে শিখি।  তার ও বেশ কিছু বছর পরে গাড়ী কিনি।  যতদিনে গাড়ী কেনার মুরোদ হলো ততদিনে গাড়ি চালানো ভুলে গেছি আর কি।  তারপর আবার শিখলাম। দু বার ই ড্রাইভিং স্কুলের গাড়ীতে।  ও গাড়ীতে কেউ চালানো শিখতে পারে না।  কারণ কন্ট্রোল থাকে পাশে বসে থাকা ড্রাইভারের কাছে। তাই আবার শিখলাম - এবার নিজের গাড়ীতে।  তিন মাসের ট্রেনিং ছ মাসে গড়ালো।  যিনি শেখাতেন তিনি টেনশনে টেনশনে বিড়ি ফুঁকে ফুঁকে গাড়ীতে বিড়ির এমন গন্ধ করে ফেললেন যে গাড়ীতে বসা দায়।  এক হরিয়ানার ড্রাইভার আমাকে শেখাতে  এসে রেগে-মেগে বলেছিলো ,"ম্যাডাম আপনি সব জানেন কিন্তু রাস্তায় বেরিয়ে কিছুই করেন না" - ম্যাডাম করবেন কী করে ম্যাডাম তো রাস্তায় নেবে ভয়ের চোটে বোধশক্তিরহিত হয়ে যান ।  আজকালকার ছোট্ট ছোট্ট মেয়েদের দেখি ততোধিক ছোট্ট ছোট্ট জামা পড়ে বিশাল গাড়ী নিয়ে ভোঁ ভোঁ করে চালিয়ে যাচ্ছে।  দেখে হিংসে হয়।  

দুক্কু নম্বর ৬

এটা আমার বুড়োবেলার  দুক্কু  

এই দুক্কু এমন দুক্কু "বোঝে কে আন জনে  সজনি আমি বুঝি মরেছি মনে মনে " - না কাব্যি করার কিছু নেই।  তবে এটা ঠিক যে এই দুক্কু নিয়েই আমি গত হব।  আমি কনজেনিটালি ওভারওয়েট।  ছোট্টবেলায় আমায় কেউ কোলে  নিতে পারতো না।  এখানে ছবি দিতে পারতাম -   থাক।  স্কুল ও কলেজ  এবং পরবর্তি  চাকুরী জীবনে আমি তন্বি হিসেবে খ্যাত ছিলাম।  তিরিশ পেরিয়ে সেই যে খেতাব হারালাম এখন ওইয়িং মেশিনে পা রাখতে ভয় হয় যদি ভেঙে যায় - লজ্জা . লজ্জা।  তবে একবার ডায়েট করে ১৫ কিলো ওজন কমিয়ে ছিলাম।  পাড়া প্রতিবেশীরা চিন্তিত স্বরে জিজ্ঞেস করতো , "তুমি কী অসুস্থ ?" তারপর শরীর এমন খারাপ হলো - গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট বললেন "ডায়েট করে কাম নাই।  নর্মাল খাবারে ফিরে  আসেন"।  আর আমি সেই যে ফিরলাম আর যাওয়া নাই।  তবে আমার এজেন্ডা না খেয়ে মরার নয় - . আমি খেয়ে বাঁচতে এবং মরতে চাই. - আই হোপ ভগাদা আমার এই ইচ্ছে টুকুর মান রাখবেন। 

যাক অনেক দুক্কের কথা ঢাক পিটিয়ে বললাম  .

 তবে এটা  জরুরি ছিল নয়তো আমার ববম হাজামের মতো অবস্থা হচ্ছিলো। পেট ফুলে ঢোল। 

বয়সটাও এমন .. হঠাৎ করে টেঁসে গেলে ভ্রাম্যমান পেত্নী হয়ে "কাকে বলি...কাকে বলি " করতে করতে মর্তলোকে ঘুরে বেড়াব আর যার তার কানে ফিসফিসাব।  

তাই আর কি লিখে রেখে গেলুম 


হালুম এন্ড হুলুম।