Saturday, December 27, 2025

এক গুচ্ছ গল্প

রেডিও মির্চি সানডে সাসপেন্স সিরিজে বেশ কিছু অডিও স্টোরি শুনলাম । বেশীর ভাগ গল্পই দীপান্বিতা রায়ের লেখা। বেশ ভালো লাগলো শুনে ।

মিকিমোটো নেকলেস 

দিগন্ত দেব কলেজে বাংলার অধ্যাপক আবার শখের গোয়েন্দা ও বটে। ওঁর বাল্যবন্ধু প্রণয় কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত। 

ধনী ব্যবসায়ী অখিল টুন্ডার স্ত্রী প্রীতি  টুন্ডার মিকিমোটো নেকলেস যখন হোটেল মেরিনায় চুরি যায় দিগন্ত দেব ওরফে দিনু টিকটিকির খুব ইচ্ছে হয় কেস্ টা তলিয়ে দেখার। কিন্তু প্রণয় অনুরোধ করে দিগন্ত কে আরেকটা কেসে তাঁকে সাহায্য করতে। নিলয় সরকার , একজন মধ্যবিত্ত, শান্তিপ্রিয় ব্যাংকার, প্রায় কিছুদিন যাবৎ এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছেন। ওঁর সন্দেহ কেউ বা কারা ওঁকে দিন রাত ফলো করছে। কিন্তু কেন ? 

কথায় কথায় যখন দিগন্ত জানতে পারে যে নিলয় পরিবার সমেত হোটেল মেরিনায় চিলড্রেনস ডে উপলক্ষে সেইদিন উপস্থিত ছিল যেদিন প্রীতি টুন্ডার নেকলেস চুরি হয় তখন দুয়ে দুয়ে চার করতে দিগন্তর বেগ পেতে হয় না। দুটো কেস কি একই সুত্রে বাঁধা?

গবেষণাগারে গুপ্তচর

দিগন্তর দুর সম্পর্কের দাদা , বৈজ্ঞানিক ড: সন্দীপন মিত্র যখন দিগন্তের শরণাপন্ন হন তাঁর অফিস থেকে চুরি হয়ে যাওয়া একটি যুগান্তকারী ওষুধের গোপনীয় ফরমুলেশন রিপোর্ট খুঁজে বার করতে ও  চোরটিকে ধরতে তখন তিনি কি জানতেন যে  তাঁর সব চেয়ে কাছের মানুষগুলো সন্দেহের তালিকাভুক্ত হতে চলেছে?

বড় মার বাক্স

রেনে (রেনেসাঁ) ও বিটো (বিতান) রেনের মামা মামিমার সঙ্গে তাঁদের বীরভূমের প্রত্যন্ত গ্রামের বাসায় ছুটি কাটাতে এসেছে। তবে এর পিছনে একটি নিগূঢ় কারণ আছে। রেনের মামা গ্রামের বাড়ি এলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ডাক্তার বলেছে এটা সিম্পল ফুড পয়জনিং নয় - মামা বাবুর শরীরে বিষাক্ত রসায়ন ( মারকিউরি বিষ ) পাওয়া গেছে। যার মানে কেউ বা কারা মামাবাবুকে পথ থেকে সরাতে চায়? কেন ? এটা কি শুধুই মামাবাবুর বিরাট পৈতৃক বাড়ি হাতানোর চেষ্টা ? না আর কিছু ? 

দ্বিমুখী বুদ্ধ

অশীতিপর নীলিমা দেবী খুন হলেন । কিন্তু তিনি অতি সাবধানী মানুষ ছিলেন । তাঁর বাড়িতে কোনো অচেনা, অজানা ব্যক্তির প্রবেশ নিষেধ ছিল। তবে কে তাঁকে হত্যা করলো এবং কেন ? নীলিমা দেবীর লন্ডন বাসি পুত্র পিনাকী ঘোষ দিগন্তকে জানান যে তাঁদের বাড়িতে একটি জেড পাথরের দ্বিমুখী বুদ্ধ মূর্তি আছে যেটি তাঁর বাবাকে একটি তিব্বতী লামা গোপনে সুরক্ষিত রাখতে দিয়েছিলেন। তবে কি এই খুন সেই বুদ্ধমূর্তি হস্তগত করার জন্য ? 

রোগী চাই জ্যান্ত

সারা কলকাতা শহর কাঁপিয়ে একের পর এক খুন হয়ে চলেছে। পুলিশের ধারণা এটি সিরিয়াল কিলিং। ডেপুটি কমিশনার সোমেন পালিত কে জয়েন্ট কমিশনার অনুপম সরখেল দায়িত্ব দিয়েছেন এই খুনীকে ধরার। খুনী অসম্ভব চালাক। কোনো ক্লু ছাড়ে না। তাহলে কিভাবে ইন্সপেক্টর পালিত এই সিরিয়াল কিলারকে ধরবে ?

আমরা বড় হয়েছি গল্প শুনতে শুনতে বা পড়তে পড়তে। ছোটবেলায় গল্পর বইই ছিল আমাদের একমাত্র মনোরঞ্জনের সাধন । তাই আজো এই বড়বেলায় গল্প, বিশেষ করে কিশোর সাহিত্য, আমাকে আকৃষ্ট করে। 

আচ্ছা, আজও কি বাবা মা, মামা, মাসি পিশীদের মুখে গল্প শুনতে শুনতে তোমরা ঘুমোও?









Saturday, December 06, 2025

সেলিব্রিটি না হওয়ার দুঃখ থুরি লাভ

আমার এককালে ইয়ে মানে সেলিব্রিটি হওয়ার বড় সাধ ছিল। মানে  ওই " আমার বড় আহ্লাদ ..." টাইপের ফিলিং। কিন্তু জীবনের ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করতে করতে সেলিব্রিটি না হওয়ার দুঃখর অনুপাতে লাভের  অংশ অনেক বেশি রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনুভব করলাম। এই বিশাল উপলব্ধির কিয়দাংশ এখানে তুলে ধরছি। আমার বিশ্বাস আপনারা নিজ-নিজ বৌদ্ধিক বিচার দিয়ে পরখ করে এই অনুভূতিগুলির মধ্যে হয়তো কিছু কিছু লুফে নিতেও পারেন।

সেলিব্রিটি হওয়ার শতেক দুঃখের কয়েকটা -


(১) রাস্তার ধারে খোলা নালার ঠিক গা ঘেঁষে দাঁড়ানো ফুচকাওয়ালার কাছ থেকে ফুচকা চেয়ে চেয়ে খেতে পারবেন না । ফুচকার তেঁতুল গোলা জল হাত বেয়ে গড়িয়ে পড়লে চেটে এই অমৃত সমান পেয় যাতে ওয়েস্ট না হয় সেটা রোধ করতে পারবেন না ।

(২) মেট্রোর ভিড়ে গাদাগাদি হয়ে শহরের পরিবহনের ফেলিং সিস্টেমের 'মা বহন কী' মানে শুদ্ধ বাংলায় যাকে বলে নিন্দা করতে করতে বাড়ি থেকে আপিস ও আপিস থেকে  বাড়ি করতে পারবেন না। 

(৩) ভিড়ে জর্জরিত হয়ে ঘর্মাক্ত কলেবরে বাসে, লোকাল ট্রেনে, মেট্রোতে (ভিড়ে হ্যাদানো এ সি তে), বুড়ো থুত্থুরে ট্রামে ঘটর ঘটর করে আসতে যেতে পার্শ্ববর্তী যাত্রীর মোবাইলের কথপোকথনের মাধ্যমে তাঁর/তাঁর এক্সটেন্ডেড ফ্যামিলির/মায় প্রতিবেশীর প্রাইভেট লাইফের রসালো খুঁটিনাটি কান লাগিয়ে শুনতে পারবেন না। ইন ফ্যাক্ট, কান লাগানোর প্রয়োজন ও নেই এমনিই লাউড স্পিকারের ঘোষণার মত শোনা যায়। এর চাইতে হেব্বি মনোরঞ্জনকারী লাইভ সিরিয়াল আর আছে কি ?

(৪) শহরের অলিতে গলিতে বেজার বেকার ঘুরতে ঘুরতে ভুল করে সুলভ শৌচালয় ঢুকে পড়ে ইয়া লম্বা জিভ কেটে সরি বলে ছিটকে বেরিয়ে আসতে পারবেন না। 

(৫) কোনো মিটিং মিছিলে টাইম পাস করার জন্যে "চলবে চলবে না" বলে ভাগ নিতে পারবেন না ।

(৬) পাবলিক ফাংশনে কেউ আপনাকে সম্মানীয় অতিথি বা বিচারক হিসেবে নিমন্ত্রণ জানাবে না বা হঠাৎ দু লাইন বলার জন্য অনুরোধ করবে না। আপনার যদি আমার মত পাবলিক স্পিকিংয়ের ভয় থাকে তাহলে এই না বলার আনন্দ যে কি অপরিসীম সেটা আর লিখে বাতলাতে হবে না। 

(৭) ছুটির দিনে (আমার ক্ষেত্রে প্রতিদিনই) শতেক বার ধোয়া রং উঠে যাওয়া টি শার্ট ও পাজামা, ছেঁড়া মোজা বা চারটে ফুঁটোওয়ালা সোয়েটার (শীতের দিনে) পড়ে রাস্তায় বেরোলে প্যাপারাজির ছিছিকার বা আপনার অসামান্য স্টাইল স্টেটমেন্টের উচ্চৈরবে প্রশংসা শুনতে/পড়তে হবে না ।

(৮) আধ ঘুমে কোনোরকমে বাড়ি থেকে টলতে টলতে বেরিয়ে গলির মোড়ে অমুকদার দোকানে দুধ, ডিম, পাউরুটি, ম্যাগীর প্যাকেট কিনতে পারবেন না। আধ খানা ডিম ফাটা বেরোলে তা নিয়ে তুমুল দামাল ও সরকার কে গালাগাল দিয়ে মনের/পেটের/মুন্ডুর/আত্মার ক্ষার মেটাতে পারবেন না।

(৯) আপনার জীবনের প্রতিনিয়ত হাগা/মোতা/হাঁচা/কাঁশা/হাই তোলা/প্রেম করা/ডেটিংয়ে ফেল্টু মারা/রোজ চান করেন কিনা নিয়ে কারও কোনো মাথা ব্যাথা থাকবে না।

(১০) আপনাকে পাবলিক রিকগনিশনের জন্য পোলোরের পর পোলোর মেক আপ চাপানোর দরকার হবে না । বিছানা থেকে ঘুম চোখে দরজা খুললেই পাশের বাড়ির সব জানতা মাসিমা "কি ঘুম হলো?" বলে হেঁসে গুড মর্নিং জানাবে।

ইন শর্ট, আপনার জীবন আপনারই থাকবে। ভিড়ে হারিয়ে যাওয়ার অপার স্বাধীনতা থেকে আপনি বঞ্চিত হবেন না। আপনার জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়কে মশলা মাখিয়ে কুরুচিকর করে কেউ বিক্রি করবে না। আর রাতে পেট ভরে রুটি মাংশ/মাছ ভাত খেয়ে নাকে সরষের তেল দিয়ে ঘুমোতে পারবেন।

এবার বলুন এই পোস্টটির ক্যাপশনটা সার্থক কিনা।