Wednesday, February 04, 2026

ভুলু আর রজনী/Bhulu And Rajani

চারিদিক সবুজে সবুজ - মাঠ, ঘাট, বন বাদার , খেত খামার। সেই সবুজের মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে নির্ঝরিণী। হাঁটতে হাঁটতে অনেকটাই পথ পেরিয়ে প্রায় জঙ্গলের কাছাকাছি এসে পড়েছি আমি আর সুমন্ত। আমরা শহুরে মানুষদের শখের  বেড়ানো। গ্রাম দেখতে এসেছি। সন্ধ্যা নামো নামো। ফেরার সময় হয়ে এসেছে। এখন এতটা পথ আবার পেরিয়ে গ্রাম তারপর আরো খানিকটা এগিয়ে রেলওয়ে স্টেশন।  

সুমন্ত ঠিক করল, "আজ আর ফেরা হবে না। এখানেই কোথাও রাত কাটানো যাক।"

আমি বললাম,"এখানে কোথায় ভায়া? এ তো আর কলকাতা নয় যে অলিতে গলিতে হোটেল । এই বিদেশে বিভুয়ে কাউকে চিনি না জানিনা থাকবো কোথায়? কে থাকতে দেবে? "

সুমন্ত কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল, " কুছ পরোয়া নেই। গ্রামের মানুষরা অতিথিবৎসল। অনুরোধ করলেই রাত কাটাতে দেবে।"

যেই বলা সেই কাজ। কিছুক্ষন হাঁটার পর এক পথচারির সঙ্গে দ্যাখা। জিজ্ঞেস করাতে সে বললে কিছু দুর গেলেই জমিদার বাবুর বাড়ি। ওখানে কথা বলে নেবেন। থাকার ব্যবস্থা হয়ে যাবে। 

কিন্তু কোথায় সে বাড়ি। প্রায় ঘন্টা খানেক চলার পর দূরে একখানা বাড়ি দেখা গেলো বটে কিন্তু সেখানে কেউ থাকে বলে তো মনে হলো না। কাছে গিয়ে দেখি পুরোনো আমলের বসত বাড়ি। কোনো এককালে জাঁকজমক ছিল হয়তো এখন ভগ্নস্তূপ না হলেও থাকার উপযুক্ত কিনা তা ভিতরে প্রবেশ না করে বোঝার উপায় নেই। 

তিন তলা বাড়ি। সদর দরজা পেরিয়ে বিরাট গোল একটা উঠোন ঘিরে অনেক গুলি ঘর। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। কোনো ঘরে আলো জ্বলছে না। বোঝাই গেলো বাড়িতে কেউ থাকে না । হাঁকডাক করাতে একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সের লোক অন্ধকারের মধ্যে থেকে প্রকট হলেন। ভয়ই পেয়ে গেছিলাম। কিন্তু লোকটি অমায়িক। বললেন নাম মন্মথ বিশ্বাস। এখন বাড়িটির ম্যারামতের ভার ওনার উপর। কোন এক এন আর আই অংশীদার নাকি বাড়িটিকে নিজের নামে করে থাকার উপযুক্ত করবার জন্য ওনাকে কাজে লাগিয়েছেন। নিয়মিত টাকাও পাঠাচ্ছেন। তাই মন্মথ বাবু বাড়িটার পরে কি গতি হবে তা নিয়ে আর ভাবাভাবি না করে সময়ের মধ্যে ঠিকঠাক করে প্রস্তুত করে দিতে কর্মরত।

রাতে থাকার কথা বলাতে উনি বললেন সেটা কোনো ব্যাপার নয়। লোকালয়ে না হলেও ভয়ের কিছু নেই। যে কোনো একটা ঘর বেছে নিয়ে থাকতে পারেন। তবে বিশেষ কোনো ব্যবস্থা বা সুবিধে নেই। উনি রাতে এখানে থাকেন না। নিজের বাড়ি চলে যান। কেয়ারটেকার বলে কেউ নেই। খাবার দাবারের ব্যবস্থাও করা যাবে না। 

আমরা বললাম খাবারের দরকার নেই। দুপুরে প্রচুর খাওয়া দাওয়া হয়েছে। সঙ্গে ফ্লাসকে জল আছে। শুধু একটা বিছানা দরকার। শীতের শুরু তাই পাখার ও প্রয়োজন হবে না। মন্মথ বাবু আমাদের দোতলার একটা ঘরে নিয়ে গিয়ে বললেন, "এটাই একমাত্র রাত কাটানোর জন্য ঠিক। তবে আলো নেই। " খোলা জানালা দিয়ে চাঁদের আলো এসে ঘরের মেঝেতে পড়েছে। জানালা বন্ধ করে দিলেও আমাদের কাছে জোরালো টর্চ আছে। সুমন্ত প্রয়োজন থাকুক না থাকুক সব আঁটঘাট বেঁধে চলে। আমরা মন্মথ বাবুকে ধন্যবাদ জালালাম। রাতটা আমরা এই ঘরে কাটিয়ে নিতে পারবো। 

মন্মথ বাবু ঘেরা বারান্দার এক কোনে কলঘরটিও  দেখিয়ে দিলেন। কলঘরে চৌবাচ্চায় জল আছে । একটা ভাঙ্গা মগ ও আছে। 

বাড়িটা এখন ঘুটঘুটে অন্ধকার। মোবাইলের আলোতে যতটুকু দ্যাখ যায়। আমরা ঘরে ফিরে এলাম। ঘরে আসবাবপত্র বেশি নেই। বিছানা একটা আছে বৈকি তবে তার চাদর কবে পাল্টানো হয়েছে বলা মুশকিল। সুমন্ত আমাকে বেশি খুঁতখুঁত করতে চোখের ইশারায় মানা করলো। 

মন্মথ বাবু নমস্কারান্তে ," এ্যাই ভুলু ! এ্যাই রজনী ! " বলে ডাক ছাড়লেন। বলা হয়নি বাড়িতে ঢোকার সময়েই উঠোনের একপাশে দুই লোমোশ কুকুরের আগেই দ্যাখা পেয়েছিলাম। তাঁরা আমাদের দেখে  ফোত করে দীর্ঘনিশ্বাস ছেড়ে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল। এখন মন্মথ বাবুর ডাকে ল্যাজ গুটিয়ে ওঁর পিছু নিল। দুটিই দেশী। যেটি সাদা রঙের তার নাম রজনী। যেটি ধুসর রঙের সে হলো ভুলু। 

***

মোবাইলে দেখি রাত দুটো। একটা খুটখাট শব্দে ঘুম ভেংগে গেছে। নিচের উঠোন থেকে মনে হয় আসছে।  দুবার ঠ্যালা মেরেও সুমন্তর নাক ডাকানো বন্ধ হলো না। টর্চ হাতে বাইরের বারান্দায় এলাম। এখান থেকে নিচের উঠোনটা দ্যাখা যায়। নিচে আলো ফেললাম। সদর দরজাটা দেখি খোলা। বুকটা ছ্যাৎ করে উঠল। শিরশিরে একটা হাওয়া বইছে। হয়তো হাওয়াতেই দরজাটা খুলে গেছে। উঠোনের চার পাশে আলো ঘুরিয়ে দেখি একটা মোটা থাম ঘেঁষে ভুলু আর রজনী শুয়ে আছে। আরে! ওঁরা না মন্মথ বাবুর সঙ্গে ...

আলো পড়াতে মুখ তুলে দুজনে আমার দিকে তাকিয়ে আবার নিশ্চিন্ত মনে মুখ গুঁজে শুলো। ভাবলাম ওঁরা দুজন থাকাতে কোনো মানুষ এ বাড়িতে ঢুকতে বোধহয় সাহস করবে না। সাহস করলেও ভুলু আর  রজনী নিশ্চই জানান দেবে।

ফিরে এসে খানিকটা নিশ্চিন্ত হয়ে শুয়ে পড়লাম।

***

পরের দিন সকালে ফ্রেশ হয়ে আমরা যাবার জন্য প্রস্তুত। মন্মথ বাবু এক ফ্লাস্ক চা নিয়ে হাজির। সঙ্গে দুটো কাঁচের গ্লাস । আর ভুলু আর রজনী।

"রাত্রে তো কোনো ব্যবস্থাই করতে পারলাম না..." সঙ্কুচিত হয়ে বললেন , " একটু চা তো খেয়ে বেরোন"। 

উঠোনে বসে চায়ের গ্লাসে চুমুক দিয়ে বললাম, "রাতে বুঝি ভুলু আর রজনীকে খোলা ছেড়ে দ্যান"?

মন্মথ বাবু বললেন, " কই না তো"।

"তবে কাল রাতে যে ওদের উঠোনে শুয়ে থাকতে দেখলাম"?

মন্মথ বাবু কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বললেন, "আপনি ওদের দেখেন নি। আপনি দেখেছেন গোরা আর বাপীকে। এ বাড়ির শেষ শরিকের পোষা কুকুর দুটি। অভাবের দায়ে বাড়ি ছাড়ার সময় ওদের সঙ্গে নিয়ে যাননি তাঁরা। গোরা আর বাপীও  ওদের যাওয়ার পর এই বাড়ি ছেড়ে যায়নি। গ্রামের লোকেরা দয়া করে ওদের যা খেতে  দিত তাই ওরা খেত। শেষ অবধি এই বাড়ি পাহারা দিয়েছে দুজনে আর নিজেদের মালিকের জন্য অপেক্ষা করেছে। যদি সে ফিরে এসে ওদের নিয়ে যায়। এই বাড়িটার পিছনের মাঠটায় ওদের গোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেকেই ওদের এই বাড়ির আশেপাশে আজও দেখতে পায়। তবে ওরা কাউকে কিছু বলে না। "

***

ট্রেন হুহু করে ছুটে চলেছে। কলকাতা ফিরছি। কিন্তু মনটা ভার ভার লাগছে। সুমন্ত একবার আস্তে করে জিজ্ঞেস করলো, "তুই ঠিক দেখেছিলি"? আমি মাথা নেড়ে হ্যাঁ জানালাম।

আমরা দুজনেই পোষ্যপ্রেমী । আমাদের পাড়ায় অনেক গোরা, বাপী, ভুলু, রজনী আছে। ওদের যখনই দেখব ... আদর করবো...কাল রাতের কথা মনে পড়ে যাবে। 

***


.                          AI generated


It's all green around - meadows, river banks, groves and farmlands. Meandering through the greens is a dancing brook. We have come quite far, almost near the forests,  enjoying the scenic beauty of the village. Me and Shumonto are from Kolkata. It's the first time that we have come for some bucolic pleasure. 

Dusk is gathering. We have to go back now the same way that we have come so far and then a few more miles to the railway station. Shumonto suddenly decides, "We will not go back now. Let's spend the night here."

I ask, "Where shall we put up? This is not Kolkata where you will find a hotel in every corner. We don't know anyone. Who will let us in for the night?"

Shumonto shrugs, "Don't worry. Villagers are very hospitable people. If we request they will let us stay for the night "

A few minutes later we come across a local who tells us to walk further down to the zamindar's mansion where we can spend the night on request.

It takes us another hour to reach there. It is an old house, not exactly in shambles, but whether it is liveworthy can only be found once we are inside.

The house has three floors. Upon entering we come to a big, round courtyard surrounding which are number of rooms. But none of them are lit. Obviously, the house stands unoccupied. Upon hollering for quite sometime a man of around fifty appears out of nowhere giving me a fright. But he seems to be courteous and kind. 

His name is Manmatha Bishwas. He is at present in charge of the renovation of the house. One of the NRI inheritors of the house has appointed him to make it liveable. He is also regularly bearing the expenses. So Manmatha Babu has stopped worrying about the future snd investing himself totally into finishing his job and handing over the house within the set deadline.

He does not have any issue about letting us in for the night. We can choose any room he says. Though it's away from the village there is nothing to worry about. However, there are no amenities available, he clarfies. Neither there is any caretaker nor any provision for cooking. He himself does not stay here at night. His residence is nearby. Everyday after work he pushes off home.

We tell him we do not require dinner, "We have had sumptuous lunch and are not hungry. A flask of water is there with us which is enough for the night. We only require a bed." It's beginning of winter. So fan is also not required. Manmatha Babu takes us to a room on the first floor saying, "This is the best for spending the night. But there is no electricity." It's dark but moonlight has spilled into the room through the open windows. Also, we have a big torch with us so light will not be a problem after we have shut the windows. Shumonto is very particular about carrying all possible items of necessity when we travel. We thank Manmatha Babu saying we will be able to spend the night in this room.

Manmatha Babu shows us the bathroom at the end of the verandah which boasts of a tank filled with water and a mug with broken handle.

The house is pitch dark now. Whatever we can see is by the flash light of our mobiles. We return to the room. It is sparsely furnished. There is a bed no doubt but it's uncertain when the covers have been changed. Shumonto with silent gestures tells ne not to be peevish about it.

Manamatha Babu bidding us goodnight hollers, "Oye Bhulu! Oye Rajani!" I forgot to mention about these two furry Indies who were sitting in the courtyard when we entered the premise. They had looked at us , sighed and turned away disinterestedly. Now as  Manmatha Babu calls their names they follow him out obediently. The brown one is Bhulu and the white one is Rajani.

***

The mobile shows its 2.00 AM. A slight noise has woken me up. Perhaps it is coming from the courtyard below. Even after nudging him twice Shumonto's snoring has not stopped. Torch in hand I walk out on to the verandah. The courtyard can be seen from here. I switch on the torch and let the light encircle the courtyard. Seeing the main door of the entrance open my heart misses a beat. Perhaps its the cool breeze blowing which has opened it. I recheck the courtyard by circling the light around one more time. I am surprised to see Bhulu and Rajani sleeping near one of the sturdy pillars. Didn't they leave with Manmatha Babu in the evening...

As the light falls on them they look up, see me, turn their face in and go back to sleep. I am sure nobody will dare to enter the house with these two around. Even if they do Bhulu and Rajani will make sure to give us a warning. 

I get back to sleep relieved.

***

Next morning...

We have freshened up and ready to leave.

Manmatha Babu walks in with a flask of tea and two glass tumblers. Alongwith Bhulu and Rajani.

"I was unable to make any arrangements last night," He sounds apologetic," Do have some tea before leaving."

Squatting on the courtyard I take a long sip of the tea and ask," Do you leave Bhulu and Rajani out in the night?"

"No!" Manmatha Babu is surprised.

"Then how come I saw them lying last night here in the courtyard?"

Manmatha Babu remains quiet for sometime before replying, " You did not see them. You saw Gora and Bapi - the pets of the last successors to this house. Struck by poverty and privation they had to vacate the house and go away. But they did not take Gora and Bapi along. The two remained here. But they did not leave the house. They kept guarding the premise and waiting for their parents till the end hoping they would come back some day and take them away with them. The kind villagers fed them and cared for them as much as they could. When they breathed their last they were buried in the back yard. However, even now at times they are seen around the house. But they don't say anything to anybody."

***

The train is whizzing by. We are returning to Kolkata. I am feeling very heavy at heart. Shumonto once just asks me quietly, " You are sure you have seen them?" I nod in response.

We are both pet lovers. We have many Bhulu , Rajani, Gora , Bapi in our neighborhood. From now on whenever we will see or pet them last night's experience will come to mind.


***


I am participating in Blogchatter's #WriteAPageADay Campaign 









Saturday, January 03, 2026

২০২৬/2026





Top post on Blogchatter

নতুন বৎসরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো পাঠক/পাঠিকাদের জন্য এবং তাদের জন্য ও যারা ঘুরতে ঘুরতে এই ব্লগ বাড়ির দোরগোড়ায় থামেন এবং না ঢুকেই চলে যান। 

Greetings and Best Wishes for the New Year for my readers and also for those wandering souls who do step on the threshold of this Blog House but do not enter into the premise.






তিন দিনের জন্য স্কুলের বন্ধুর বাড়ি গেছিলাম। গুরুগ্রাম।  দারুন কাটলো। 

তেইশে ডিসেম্বর। পৌঁছলাম লাঞ্চের সময়। খেয়ে দেয়ে ছোট্টো বিশ্রাম। তারপর বাড়ির কাছেই ব্রহ্মকুমারীদের মেডিটেশন সেন্টারে দুর্দান্ত আধ ঘণ্টার মেডিটেশন। মন ও মস্তিষ্ক হিম শীতল ঠান্ডা করে ফেরা।

চব্বিশে ছিল বন্ধুর বাড়িতেই নাচের বৈঠক। আমার বন্ধু একটি অসম্ভব গুনী মানুষ । তিনি কথক শিল্পী এবং নৃত্য শিক্ষিকাও । ওঁরই ছাত্রীদের নৃত্য পরিবেশন ছিল সন্ধ্যায় । ছাত্রীদের বাবা মারাও ছিলেন দর্শকের দলে। অপূর্ব একটি মনোরম সন্ধ্যা তারপর খাওয়া দাওয়া ও আলাপচারিতা।

পঁচিশে আমরা রওয়ানা দিলাম তি গাওঁ - হরিয়ানার একটি প্রত্যন্ত গ্রাম। দেড় ঘণ্টার পথ। আমাদের গন্তব্যস্থল - প্রণব কন্যা আশ্রম । আশ্রমের প্রশাসন কর্ত্রী সাধু মা বাঙালি ও ভারি মিশুকে মানুষ। 

আশ্রমটি ভারত সেবাশ্রম দ্বারা চালিত কন্যাদের থাকার আশ্রম । এই আশ্রমে এগারোটি মেয়ে থাকে ও গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করে । মেয়েগুলির মধ্যে কিছু অনাথ আবার কিছু অত্যন্ত গরীব ঘরের যাদের মা  বাবা তাদের ভরণ পোষণ করতে অক্ষম। 

স্কুল পাশ করে যারা আরো পড়তে চায় তারা কলেজে যায় বা অন্য কোনো কোর্স করে । পড়াশোনা শেষ করে তারা চাকুরিরতা হলে নিজেদের বাড়ি ফিরে যায়। আবার কিছু মেয়েরা বিবাহিত জীবন বেছে নেয়। 

সাধু মা অনেক গল্প করলেন - তাঁর সন্যাসিনী হওয়ার গল্প, আশ্রম চালানো কত দুরূহ হয়ে পড়েছে সেই গল্প, কী ভাবে আশ্রমটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে সে গল্প। সাধু মা আরও জানালেন সি ডব্লু সি অর্থাৎ চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির নির্দেশ অনুযায়ী শুধু হরিয়ানা প্রদেশের মেয়েরাই এই আশ্রমে থাকতে পারবে। অন্য প্রদেশের মেয়েরা এখানে থাকতে পারবে না । তাই আশ্রমে মেয়েদের সংখ্যা কমে গিয়ে এগারোয় দাঁড়িয়েছে। 

আশ্রমটি গড়ে উঠেছে ভারত সেবাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজের মন্দির ঘিরে। প্রায় সন্ধ্যা নেবে এসেছে । চারিদিকে আম, চিকু, কাঠাল, আমলকির গাছ। ঢুকতেই পাখিদের বিরাট খাঁচা । ফুলের কেয়ারি। মরশুমে ফুলে ফুলে ফলে ফলে বাগান ছেয়ে যায়। একটি ব্রহমচারিণী ঘুরে ঘুরে আমাদের আশ্রম দেখালো।

এবার ফেরার পালা। আমাদের সাথে ছিল কিছু খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী। সাধু মার হাতে সেগুলি  তুলে দিয়ে আমরা বাড়ির অভিমুখে ছুটলাম। মনটা ভারি লাগছিল তার সঙ্গে একটা ভালো কাজ করার সন্তুষ্টিও ছিল। সব মিলে মিশে একাকার ।

বলতে ভুলে গেছি তেইশে ডিসেম্বর ছিল আমার জন্ম দিন । সেই দিনটি আমার মায়ের প্রয়াণ দিবস ও। তাই একটু অন্য রকম ভাবে কাটাতে চেয়েছিলাম।

পরদিন আমার বাড়ি ফেরার পালা। বন্ধুর রোদেলা বারান্দায় তোলা কিছু ছবি রাখলাম । আর কিছু ছবি আমাদের প্রিয় ভারি ভালো মানুষ ধাতিন সাহেবের । 

***

I left for Gurugram for a three day visit with my school buddy. 

23.12.2026

After a sumptuous lunch and short nap we attended a soul stirring half an hour meditation session at the nearby Brahmkumari Ashram. We returned healed and in peace. 

24.12.2026

My friend is an extremely talented Kathak dancer and a dedicated teacher. In the evening we attended an in-house baithak or an hour long dance recital choreographed by her students. The programme was also attended by the parents. 

At post baithak dinner lovely interaction with the students ensued.

25.12.2026

We undertook a one and a half hour journey to Tigaon - a remote village in the state of Haryana. Our destination - Pranav Kanya Ashram run by the well known religious Organization - Bharat Sevashram

Sadhu Maa, the Ashram administrator, was very friendly. We had a long interaction with her. She told us about her journey as a monk, how the Ashram got established and the challenges of running the Ashram. 

There are, currently, eleven inmates in the Ashram. They are either orphans or belong to very poor households who are unable to provide for them. The girls go to the village school. Those who wish to study further even attend college or some other vocational course and get into jobs thereafter. After getting employed they are returned to their families. Some are also married off. 

As per the stipulation by the  CWC or Child Welfare Committee only girls from the State of Haryana can stay in the Ashram. "That is why the dwindling number of inmates in the Ashram", explained Sadhu Maa. 

The Ashram is built around the Temple of Swami Pranabananda Maharaj, the founder of Bharat Sevashram. As dusk deepens, we decide to leave .The Ashram is surrounded by greenery. There are  mango, chikoo, jackfruit, gooseberry trees around intercepted by flower beds. The Brahmacharini or a novice monk shows us around. At the entrance is a huge cage full of chirping birds. 

It's getting dark. A little depressing too. We hand over boxes of assorted snacks and a few items required by the inmates to Sadhu Maa and take her leave. 

Going back home we have mixed feelings - sadness as well as the satisfaction of doing a good deed. 

26.12.2026

Pack up. Return home. Three days spent well with my friend and of course our dear old Dhatin - the gentle soul. 

The pics were taken one sunny afternoon in the balcony. 

Oh! I forget. 23rd was my birthday and also the day my mother left for heavenly abode. That's why wanted to spend the day a bit differently.






Saturday, December 27, 2025

এক গুচ্ছ গল্প

রেডিও মির্চি সানডে সাসপেন্স সিরিজে বেশ কিছু অডিও স্টোরি শুনলাম । বেশীর ভাগ গল্পই দীপান্বিতা রায়ের লেখা। বেশ ভালো লাগলো শুনে ।

মিকিমোটো নেকলেস 

দিগন্ত দেব কলেজে বাংলার অধ্যাপক আবার শখের গোয়েন্দা ও বটে। ওঁর বাল্যবন্ধু প্রণয় কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত। 

ধনী ব্যবসায়ী অখিল টুন্ডার স্ত্রী প্রীতি  টুন্ডার মিকিমোটো নেকলেস যখন হোটেল মেরিনায় চুরি যায় দিগন্ত দেব ওরফে দিনু টিকটিকির খুব ইচ্ছে হয় কেস্ টা তলিয়ে দেখার। কিন্তু প্রণয় অনুরোধ করে দিগন্ত কে আরেকটা কেসে তাঁকে সাহায্য করতে। নিলয় সরকার , একজন মধ্যবিত্ত, শান্তিপ্রিয় ব্যাংকার, প্রায় কিছুদিন যাবৎ এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছেন। ওঁর সন্দেহ কেউ বা কারা ওঁকে দিন রাত ফলো করছে। কিন্তু কেন ? 

কথায় কথায় যখন দিগন্ত জানতে পারে যে নিলয় পরিবার সমেত হোটেল মেরিনায় চিলড্রেনস ডে উপলক্ষে সেইদিন উপস্থিত ছিল যেদিন প্রীতি টুন্ডার নেকলেস চুরি হয় তখন দুয়ে দুয়ে চার করতে দিগন্তর বেগ পেতে হয় না। দুটো কেস কি একই সুত্রে বাঁধা?

গবেষণাগারে গুপ্তচর

দিগন্তর দুর সম্পর্কের দাদা , বৈজ্ঞানিক ড: সন্দীপন মিত্র যখন দিগন্তের শরণাপন্ন হন তাঁর অফিস থেকে চুরি হয়ে যাওয়া একটি যুগান্তকারী ওষুধের গোপনীয় ফরমুলেশন রিপোর্ট খুঁজে বার করতে ও  চোরটিকে ধরতে তখন তিনি কি জানতেন যে  তাঁর সব চেয়ে কাছের মানুষগুলো সন্দেহের তালিকাভুক্ত হতে চলেছে?

বড় মার বাক্স

রেনে (রেনেসাঁ) ও বিটো (বিতান) রেনের মামা মামিমার সঙ্গে তাঁদের বীরভূমের প্রত্যন্ত গ্রামের বাসায় ছুটি কাটাতে এসেছে। তবে এর পিছনে একটি নিগূঢ় কারণ আছে। রেনের মামা গ্রামের বাড়ি এলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ডাক্তার বলেছে এটা সিম্পল ফুড পয়জনিং নয় - মামা বাবুর শরীরে বিষাক্ত রসায়ন ( মারকিউরি বিষ ) পাওয়া গেছে। যার মানে কেউ বা কারা মামাবাবুকে পথ থেকে সরাতে চায়? কেন ? এটা কি শুধুই মামাবাবুর বিরাট পৈতৃক বাড়ি হাতানোর চেষ্টা ? না আর কিছু ? 

দ্বিমুখী বুদ্ধ

অশীতিপর নীলিমা দেবী খুন হলেন । কিন্তু তিনি অতি সাবধানী মানুষ ছিলেন । তাঁর বাড়িতে কোনো অচেনা, অজানা ব্যক্তির প্রবেশ নিষেধ ছিল। তবে কে তাঁকে হত্যা করলো এবং কেন ? নীলিমা দেবীর লন্ডন বাসি পুত্র পিনাকী ঘোষ দিগন্তকে জানান যে তাঁদের বাড়িতে একটি জেড পাথরের দ্বিমুখী বুদ্ধ মূর্তি আছে যেটি তাঁর বাবাকে একটি তিব্বতী লামা গোপনে সুরক্ষিত রাখতে দিয়েছিলেন। তবে কি এই খুন সেই বুদ্ধমূর্তি হস্তগত করার জন্য ? 

রোগী চাই জ্যান্ত

সারা কলকাতা শহর কাঁপিয়ে একের পর এক খুন হয়ে চলেছে। পুলিশের ধারণা এটি সিরিয়াল কিলিং। ডেপুটি কমিশনার সোমেন পালিত কে জয়েন্ট কমিশনার অনুপম সরখেল দায়িত্ব দিয়েছেন এই খুনীকে ধরার। খুনী অসম্ভব চালাক। কোনো ক্লু ছাড়ে না। তাহলে কিভাবে ইন্সপেক্টর পালিত এই সিরিয়াল কিলারকে ধরবে ?

আমরা বড় হয়েছি গল্প শুনতে শুনতে বা পড়তে পড়তে। ছোটবেলায় গল্পর বইই ছিল আমাদের একমাত্র মনোরঞ্জনের সাধন । তাই আজো এই বড়বেলায় গল্প, বিশেষ করে কিশোর সাহিত্য, আমাকে আকৃষ্ট করে। 

আচ্ছা, আজও কি বাবা মা, মামা, মাসি পিশীদের মুখে গল্প শুনতে শুনতে তোমরা ঘুমোও?









Saturday, December 06, 2025

সেলিব্রিটি না হওয়ার দুঃখ থুরি লাভ

আমার এককালে ইয়ে মানে সেলিব্রিটি হওয়ার বড় সাধ ছিল। মানে  ওই " আমার বড় আহ্লাদ ..." টাইপের ফিলিং। কিন্তু জীবনের ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করতে করতে সেলিব্রিটি না হওয়ার দুঃখর অনুপাতে লাভের  অংশ অনেক বেশি রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনুভব করলাম। এই বিশাল উপলব্ধির কিয়দাংশ এখানে তুলে ধরছি। আমার বিশ্বাস আপনারা নিজ-নিজ বৌদ্ধিক বিচার দিয়ে পরখ করে এই অনুভূতিগুলির মধ্যে হয়তো কিছু কিছু লুফে নিতেও পারেন।

সেলিব্রিটি হওয়ার শতেক দুঃখের কয়েকটা -


(১) রাস্তার ধারে খোলা নালার ঠিক গা ঘেঁষে দাঁড়ানো ফুচকাওয়ালার কাছ থেকে ফুচকা চেয়ে চেয়ে খেতে পারবেন না । ফুচকার তেঁতুল গোলা জল হাত বেয়ে গড়িয়ে পড়লে চেটে এই অমৃত সমান পেয় যাতে ওয়েস্ট না হয় সেটা রোধ করতে পারবেন না ।

(২) মেট্রোর ভিড়ে গাদাগাদি হয়ে শহরের পরিবহনের ফেলিং সিস্টেমের 'মা বহন কী' মানে শুদ্ধ বাংলায় যাকে বলে নিন্দা করতে করতে বাড়ি থেকে আপিস ও আপিস থেকে  বাড়ি করতে পারবেন না। 

(৩) ভিড়ে জর্জরিত হয়ে ঘর্মাক্ত কলেবরে বাসে, লোকাল ট্রেনে, মেট্রোতে (ভিড়ে হ্যাদানো এ সি তে), বুড়ো থুত্থুরে ট্রামে ঘটর ঘটর করে আসতে যেতে পার্শ্ববর্তী যাত্রীর মোবাইলের কথপোকথনের মাধ্যমে তাঁর/তাঁর এক্সটেন্ডেড ফ্যামিলির/মায় প্রতিবেশীর প্রাইভেট লাইফের রসালো খুঁটিনাটি কান লাগিয়ে শুনতে পারবেন না। ইন ফ্যাক্ট, কান লাগানোর প্রয়োজন ও নেই এমনিই লাউড স্পিকারের ঘোষণার মত শোনা যায়। এর চাইতে হেব্বি মনোরঞ্জনকারী লাইভ সিরিয়াল আর আছে কি ?

(৪) শহরের অলিতে গলিতে বেজার বেকার ঘুরতে ঘুরতে ভুল করে সুলভ শৌচালয় ঢুকে পড়ে ইয়া লম্বা জিভ কেটে সরি বলে ছিটকে বেরিয়ে আসতে পারবেন না। 

(৫) কোনো মিটিং মিছিলে টাইম পাস করার জন্যে "চলবে চলবে না" বলে ভাগ নিতে পারবেন না ।

(৬) পাবলিক ফাংশনে কেউ আপনাকে সম্মানীয় অতিথি বা বিচারক হিসেবে নিমন্ত্রণ জানাবে না বা হঠাৎ দু লাইন বলার জন্য অনুরোধ করবে না। আপনার যদি আমার মত পাবলিক স্পিকিংয়ের ভয় থাকে তাহলে এই না বলার আনন্দ যে কি অপরিসীম সেটা আর লিখে বাতলাতে হবে না। 

(৭) ছুটির দিনে (আমার ক্ষেত্রে প্রতিদিনই) শতেক বার ধোয়া রং উঠে যাওয়া টি শার্ট ও পাজামা, ছেঁড়া মোজা বা চারটে ফুঁটোওয়ালা সোয়েটার (শীতের দিনে) পড়ে রাস্তায় বেরোলে প্যাপারাজির ছিছিকার বা আপনার অসামান্য স্টাইল স্টেটমেন্টের উচ্চৈরবে প্রশংসা শুনতে/পড়তে হবে না ।

(৮) আধ ঘুমে কোনোরকমে বাড়ি থেকে টলতে টলতে বেরিয়ে গলির মোড়ে অমুকদার দোকানে দুধ, ডিম, পাউরুটি, ম্যাগীর প্যাকেট কিনতে পারবেন না। আধ খানা ডিম ফাটা বেরোলে তা নিয়ে তুমুল দামাল ও সরকার কে গালাগাল দিয়ে মনের/পেটের/মুন্ডুর/আত্মার ক্ষার মেটাতে পারবেন না।

(৯) আপনার জীবনের প্রতিনিয়ত হাগা/মোতা/হাঁচা/কাঁশা/হাই তোলা/প্রেম করা/ডেটিংয়ে ফেল্টু মারা/রোজ চান করেন কিনা নিয়ে কারও কোনো মাথা ব্যাথা থাকবে না।

(১০) আপনাকে পাবলিক রিকগনিশনের জন্য পোলোরের পর পোলোর মেক আপ চাপানোর দরকার হবে না । বিছানা থেকে ঘুম চোখে দরজা খুললেই পাশের বাড়ির সব জানতা মাসিমা "কি ঘুম হলো?" বলে হেঁসে গুড মর্নিং জানাবে।

ইন শর্ট, আপনার জীবন আপনারই থাকবে। ভিড়ে হারিয়ে যাওয়ার অপার স্বাধীনতা থেকে আপনি বঞ্চিত হবেন না। আপনার জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়কে মশলা মাখিয়ে কুরুচিকর করে কেউ বিক্রি করবে না। আর রাতে পেট ভরে রুটি মাংশ/মাছ ভাত খেয়ে নাকে সরষের তেল দিয়ে ঘুমোতে পারবেন।

এবার বলুন এই পোস্টটির ক্যাপশনটা সার্থক কিনা।

Wednesday, November 19, 2025

অদ্ভুতুড়ে ফোন

আমার ল্যান্ড লাইন... ঠিক শুনেছেন । আমার একটা মধ্যযুগীয় ল্যান্ড লাইন আছে যেটা কখনও ব্যবহারে আসে না। শুধ রাখা আছে। কিন্তু সে আমারই মতো কাজ পাগল তাই আপনা আপনি বেজে ওঠে দিনে দুপুরে। রিসিভার তুলে দেখেছি। ওপাশে কোন আওয়াজ পাই নি... কেউ কথা বলে না। তবে কে বাজায় ফোনটা ? 

হয়তো কেউ আলোকবর্ষ দুর থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবার চেষ্টা করছে। আমি এক সময় দৃঢ় বিশ্বাস রাখতাম যে একদিন না একদিন অন্য গ্রহ থেকে কোনো এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়াল প্রাণী আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করবে...নিজের ভাষায় হ্যালো বলবে। এ কি সেই? 

এক সন্ধ্যে দিদি জামাই বাবু সামনে বসিয়ে ভালো করে বোঝায় সম্ভব আর অসম্ভব, বাস্তব ও কল্পনা, বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক, গল্প ও আসল জীবনের মধ্যে ফারাক। তবু ও একটা ক্ষীণ আশা মনের ভিতর ধড়ফড় করে।

ফোনের কৃঙ্কিরানি শুনে আজও রিসিভার তুলেছি , হ্যালো হ্যালো করে বার চারেক গলা ফাটিয়েছি তারপর কান লাগিয়ে শুনবার চেষ্টা করেছি ওপার থেকে ইটির গলায় আন্তরিকতা জড়ানো, "কি কেমন আছ ?"

পাইনি... শুধু হিমশীতল স্তব্ধতা আর কিছু না।

তবু ও অপেক্ষায় আছি।

বন্ধু কথা কও... কথা কও... নীরব নাহি রও... কথা কও... কথা কও...

Saturday, September 20, 2025

আবার মিতিন


মিতিন এবার পরিবার সহ কুলুতে। বেড়াতে গিয়ে ওই আর কি যা হয় চোর ছ্যাঁচোর ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়া। ঢেকি স্বর্গে গিয়েও ধান ভানে। দশহরার সময় কুলু ভিড়ময়। থাকার জায়গা পাওয়া ভার। আগের থেকে বুকিং যে পার্থ কেন করেনি! 

শেষে ওদের লোকাল ড্রাইভার টিংকু সিংহের সৌজন্যে, কুলু থেকে একটু বাইরে, একটি কটেজে দুটি ঘর পাওয়া গেলো। একটিতে মিতিন, পার্থ ও বুমবুম আরেকটাতে মিতিনের বোন সহেলি, বর অবনী ও মেয়ে টুপুর ( মিতিনের সহযোগী)। তোমরা জানো নিশ্চই মিতিন একজন পেশাদার গোয়েন্দা । ওর এজেন্সির নাম থার্ড আই ।

তা যা বলছিলাম । কটেজটা বেশ ছিমছাম , সাজানো গোছানো। কিন্তু গোল বাঁধলো যখন মিতিনের ছেলে বুমবুম কম্পিউটার টেবিলের ড্রয়ারে একটা পেনড্রাইভ কুড়িয়ে পেলো। কৌতূহলী মিতিন আর ওর স্যাঙ্গাত টুপুর  (বোনঝি) তৎক্ষণাৎ বসে পড়ল পেনড্রাইভে কি আছে দেখতে। 

ও বাব্বা:! এ কি যে সে ব্যাপার। পেনড্রাইভ ভর্তি যে নাম করা আঁকিয়ে নিকোলাস রোয়েরিকের আঁকা পেইন্টিংয়ের ফটোতে ভরা!! আবার সে রাত্রেই কটেজের মালিক বিভব শর্মার সঙ্গে স্থানীয় এক চিত্রকর , বৈজনাথ রাইএর, কথা কাটাকাটি কানে এলো। বৈজনাথ রেগেমেগে চলে যাবার পর বিভব শর্মাকে পরের দিন মিতিন প্রশ্ন করতে ছাড়ে? 

জানা গেলো বৈজনাথ কে নাকি দুজন টুরিস্ট, যারা এই কটেজেই, মিতিনদের ঘরখানাতে উঠেছিল, তিনটি চিত্র বানাতে কিছু অগ্রিম টাকা দেয়। বৈজনাথ পেইন্টিংগুলি বানিয়েও দ্যান। কিন্তু বাকি টাকা বৈজনাথকে না দিয়েই সেই দুজন টুরিস্ট হাপিস। বোঝো কাণ্ড!

ওই দিকে বিকেলে দশহরার মেলাতে বৈজনাথের সঙ্গে মিতিনের আকস্মিক ভাবে দ্যাখা । মিতিন গল্পো জুড়ে দেয়।  বৈজনাথ কথায় কথায় জানান যে তাঁকে ওই দুজন টুরিস্ট রোয়েরিক সাহেবের তিন খানা আঁকা ছবির নকল করতে দিয়েছিল।

পর দিন আর সোজা মানালি যাওয়া হলো না। মানালির পথে নাগোরে রোয়েরিক সাহেবের আর্ট গ্যালারিতে ঢু মারা ঠিক হলো। পোঁছে এ কি ধাঁধা ?

আর্ট গ্যালারিতে কেউ বা কারা রাত্রে গ্রিলের দরজা কেটে জানালার কাঁচ ভেঙে ঢুকবার চেষ্টা করেছে। রাতের গার্ডকে হাত পা মুখ বেঁধে খাদের ধারে ফেলে রাখা হয়েছে। খানাতল্লাশি চলছে। স্বয়ং ডি এস পি, আশুতোষ শাহের পর্যবেক্ষণে। 

মিতিন নিজের পরিচয় দিল ডি এস পি ও গ্যালারির ম্যানেজার, কিশনলাল দুগ্গর কে। পেনড্রাইভটি দেখিয়ে জানালো কি ভাবে সেটা পেয়েছে আর কী আছে তার মধ্যে। একটি অনুরোধ ও রাখলো। ফার্স্ট ফ্লোরে, যেখান, গরাদ ও কাঁচ ভাঙ্গা হয়েছে, সেখানকার ছবিগুলো আবার নিরীক্ষণ করা হোক। 

কিছুক্ষন পর কিশনলাল দুগ্গর ফিরে এসে মাথায় হাত দিয়ে বসলো। হ্যাঁ মিতিন যা সন্দেহ করেছে ঠিক তাই। তিনটি ছবির অরিজিনাল বেমালুম লোপাট ও তার জায়গায় তাদের কপি রাখা। আশুতোষ শাহ রেগে কাঁই। এর একটা হ্যস্ত ন্যস্ত করতেই হবে। কিশনলাল তো মিতিনকে বলেই ফেললো একটু ব্যাপারটা দেখে নিতে মানে পুলিশী ইনভেস্টিগেশনের সঙ্গে সঙ্গে একটা প্যারালাল ইনভেস্টিগেশন চালাতে। মিতিন এক কথায় রাজি। 

তারপর আর কি ? কুলু থেকে নাগোর থেকে মানালি থেকে মণিকরন সাহাব থেকে আবার কুলু চোরদের পিছন পিছন দৌড়ানো। শেষমেষ মিতিন বিজয়িনী। 

গল্পটি ইউটিউবের থ্রিলারল্যান্ডে শোনা। ভালো লাগলো ওদের উপস্থাপনা। তাই জানালাম। ভালো লাগলে শুনো। সুচিত্রা ভট্টাচার্যর লেখা মিতিন মাসি সিরিজের 
কুড়িয়ে পাওয়া পেনড্রাইভ। 

এই গল্পের মূল আকর্ষণ হলো কুলু মানালি এবং তার আশেপাশের সব জায়গাগুলোর বিষদ বর্ণনা। আর ঐতিহাসিক শিল্পী নিকোলাস  রোয়েরিক ও তার আর্ট গ্যালারিটিকে প্লটে সম্মিলিত করা।

বইটি আমাজনে উপলব্ধ ও দেখলাম। পড়তেও পারো।

আবার দ্যাখা হবে...

টাটা 

পুনশ্চ : উপরের ছবিটি থ্রিলারল্যান্ডের ভিডিও থেকে একটি স্ক্রীন গ্র্যাব 




Monday, September 15, 2025

ভর দুপুরে

এক পশলা বৃষ্টির পরেই আকাশটা শারদীয় লাগে। যদিও এখন বর্ষাকাল শরৎ নয়। আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই একগাদা কালো ভারি মেঘ এসে জমজমাট নীল রংটা মুছে ফেলে। প্রায় দুমাস যাবৎ এই চলছে। রোদ আর অন্ধকারের খেলা।

এখন পুজো আসছে বলেই হয়তো বৃষ্টি থেমেছে। কিন্তু বাদলের মেজাজের কোনো ঠিক নেই। কখন যে আবার ঝরঝর করে জলে জলাক্কার করবে কে জানে।
দুপুরে পিছনের দরজা দিয়ে এক ফালি সোনালী রোদ ঘরের দেওয়ালের গায়ে তেরছা ভাবে এসে পড়েছে। এরকম নরম দুপুরে বই পড়তে পড়তে ঝিম ধরে। মনে হয় বসে ঢুলি ওই চিলতে রোদ্দুরটাকে জাপটে ধরে। আবার কবে আসবে কে জানে।

গড়িমসি করি। বাইরের দরজায় কে যেন টোকা মারল। উঠে দেখতে ইচ্ছে করে না। দুপুরের আমেজ ভঙ্গ করে কে? চেঁচিয়ে বলি এখন নয় পরে এস। তবুও টোকা থামে না। আরো জোড়ে ...

উঠে দরজা খুলে দেখি কেউ নেই । একখানা হ্যান্ডবিল মাটিতে লুটোচ্ছে। তুলে দেখি লেখা আপনি কি এখনো বাঁচতে চান? যোগাযোগ করুন এই নম্বরে XXXXXX৯৯৯৯।

কি অবান্তর প্রশ্ন। কাগজটা ছিঁড়ে ফেলে দিই।

***

মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে যায়। বালিশের পাশে মোবাইলে সময় দেখি - একটা বাজতে দু মিনিট। ঘুমের মধ্যে মনে হয়েছিল কেউ যেন দরজায় কড়া নাড়ল। এত রাতে ! পাশ ফিরে শুয়ে ভাবলাম স্বপ্ন হয়তো। না:! আবার যেন আওয়াজ হলো। 

কিছুক্ষন পর চৌকিদারের শীষ দেওয়ার শব্দ শুনলাম। ঠক ঠক ঠকাং - ওরই হাতের লাঠির আওয়াজ । বাড়ির সামনের পার্কের রেলিংগুলোতে বাজাতে বাজাতে যায় । একটু সাহস বাড়ে। উঠে সামনের দরজা খুলি। কই কেউ নেই তো। ব্যালকনিতে একটা চৌকো কাগজের টুকরো পড়ে আছে। হ্যান্ডবিল ভেবে তুলি। কিন্তু এত রাতে কেই বা হ্যান্ডবিল বিলোয়? 

কাগজটার এপিঠ ওপিঠ দেখি। কিছু লেখা নেই। শুধু মাঝখানে  একটা প্রশ্ন চিহ্ন আঁকা। সাদার উপর কালো। ব্যালকনির ধারে গ্রিল লাগানো দেওয়াল । বেশি উঁচু নয়। কোমর অবধি। দেওয়ালটার ধারে এলেই গলির রাস্তাটা দেখা যায়। জনহীন, নিঃস্তব্ধ। আরেকটু ঝুঁকে দেখি। দূর অনেকদূর অবধি দেখা যায়। চৌকিদার তার এই গলির রাউন্ড শেষ করে পাশের গলিতে টহল দিচ্ছে। আওয়াজ পেলাম। 

ঘন অন্ধকারে বড় বড় গাছগুলি ছায়ায় ঘেরা। গলির মোড়ে সেই জমাট ছায়ার মধ্যে মনে হল কে যেন নিবিড় হয়ে মিলিয়ে গেল। ছায়াসম।

দরজা বন্ধ করে শোবার ঘরে ফিরে এলাম। যদিও জানি আজ আর ঘুম হবে না।